ঝুঁকি বেড়েছে ব্যাংকিং খাতে

করোনা মহামারির প্রভাব ঠেকাতে সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও দেশের ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের এক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ম্যাক্রোপ্রুডেনশিয়াল  স্ট্রেস টেস্টিং শীর্ষক এক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনীতি, নীতি সহায়তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সংক্ষেপে পর্যালোচনা করতে গিয়ে আইএমএফ বলেছে, ২০১০ সাল থেকে পরবর্তী দশকে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী হলেও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমতে থাকায় বাজেট সহায়তা হিসেবে আইএমএফের কাছ থেকে ৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা চায় সরকার। এরই অংশ হিসেবে দেশের অর্থনীতি, আর্থিক খাতসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত সেপ্টেম্বরে সরকারকে দেওয়া ‘বাংলাদেশ ম্যাক্রোপ্রুডেনশিয়াল স্ট্রেস টেস্টিং’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি  সেই মূল্যায়নের অংশ।

ঝুঁকি বেড়েছে ব্যাংকিং খাতে

আইএমএফের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পরিমিত থাকলেও এটি ইতিবাচক ধারায় ছিল। বেসরকারি খাতের ভোগের ওপর নির্ভর করে পরের বছরও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। মহামারিকালীন সামাজিক চলাফেরা অব্যাহত থাকলেও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার ছিল কম। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি হার ছিল ঊর্ধ্বমুখী। রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়ায় চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে ধারাবাহিকভাবে। বৈশ্বিক সংকট না কাটা পর্যন্ত এই ঝুঁকিগুলো অব্যাহত থাকবে বলে আইএমএফ তার পর্যালোচনায় বলেছে। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি দেশের আর্থিক খাতের ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে আরও বলেছে, ‘কভিড-১৯’-এর আগেই ঝুঁকিতে পড়েছিল বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত। ২০১০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জিডিপি ও উচ্চ প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে খেলাপি ঋণের হার। অর্থনীতিতে করোনা মহামারির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে কর্তৃপক্ষ (ঋণ আদায় কার্যক্রমে) স্থগিতাদেশসহ কিছু সহনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলেও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নন পারফর্মিং লোন (এনপিএল) রেশিও বেড়ে ৭ দশমিক ৯ শতাংশে উঠে যায়। অব্যাহতভাবে খেলাপি ঋণ বাড়ায় ব্যাংকগুলোর ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমে যায়। তফসিলি অনেক ব্যাংক খেলাপি ঋণের বিপরীতে ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন রাখতে ব্যর্থ হয়।

সর্বশেষ