করোনার চেয়ে তিনগুণ বেশি মৃত্যু হয় ক্যানসারে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসানুজ্জামান সুমন বিশেষ প্রতিনিধি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
গত তিন বছরে দেশে করোনায় যত মানুষের প্রাণ ঝরেছে, তার চেয়েও তিনগুণ বেশি মৃত্যু ক্যানসারে হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ জন্য চিকিৎসকসহ সবাইকে ক্যানসার প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আজ বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিংসহ জনসংখ্যাভিত্তিক জরায়ু-মুখ ও স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং কর্মসূচি সংক্রান্ত তথ্য ও ফলাফল প্রকাশ এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর দেশে ক্যানসারে এক লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। নতুন করে আক্রান্ত হয় দেড় লাখ। এসব রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার নারী ভুগছেন স্তন ক্যানসারে। যার মধ্যে প্রায় অর্ধেকের মৃত্যু হয়। প্রতিবছর জরায়ু মুখের ক্যানসার আক্রান্ত হয় আট হাজার, মারা যান পাঁচ হাজারের মত। এ ছাড়াও শনাক্তের বাইরে থাকেন অসংখ্য নারী। সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে ক্যানসারে ভুগছেন এমন রোগী ১৫ থেকে ১৮ লাখ।’
জাহিদ মালেক বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সকলে ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছে। এ জন্য ৫৭০টি সেন্টার করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে। আমাদের পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা রয়েছে ৫০০টি উপজেলায় ইলেকট্রনিক ডেটা ট্র্যাকিং সেন্টার করার। কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রাথমিক স্ক্রিনিং করা যায় সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
বাংলাদেশে এখনো ক্যানসারের চিকিৎসা ব্যবস্থা সেভাবে উন্নত হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘স্ক্রিনিংয়ের পরের ধাপ হলো চিকিৎসা। কিন্তু এতে এখনো আমরা পিছিয়ে আছি। যার ফলে অনেকে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে যায়। এ জন্য ৮টি বিভাগীয় হাসপাতালে ৮টি ক্যানসার সেন্টার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে, এই রোগ থেকে শতভাগ সুস্থ হয়ে ওঠার চিকিৎসা রয়েছে। প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় মেমোগ্রাফির মেশিন দেওয়া হবে। এতে করে সেখানে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা আরও ভালো হবে।’
বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব রাশেদা আকতার, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ কে এম আমিরুল মোরশেদ প্রমুখ।

সর্বশেষ