দুই বউ ও সন্তান নিয়ে উপজেলা সামলাচ্ছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার দুই বউ ও একটি পুত্র সন্তানের জনক হয়েও দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বিবাহিত কেউ ছাত্রলীগ করার নিয়ম না থাকলেও দীর্ঘ দিন ধরে ফয়সালের এই বিষয়গুলো দেখার কেউ নেই।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, সর্বোচ্চ পরিমান গোপনিয়তা রক্ষা করে ফয়সাল আলম শিকদার সংগঠনের দায়িত্বে আছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক সহ সভাপতি জানান, “ফয়সাল বিবাহিত সভাই জানে, এবং তার দুই বউ ও একটি পুত্র সন্তান আছে। কিন্তু সরাসরি কোন প্রমান হাতে না পাওয়ায় তাকে বহিস্কার করা যায় নি। এখন যেহেতু এলাকার লোকজন মুখ খুলতে শুরু করেছে সুতরাং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী রাজধানী ঢাকার আদদ্বীন হাসপাতালে ফয়সাল শিকদার ও তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার কোলজুড়ে পুত্র সন্তান আসে।

রুপগঞ্জ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দেড় বছর আগে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দেবই এলাকার সাদিয়াকে বিয়ে করেন রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদার। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরই ফয়সাল আলম শিকদার বিয়ে করেন। কিন্তু নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে বিয়ের কথা গোপন রাখেন তিনি।

ফয়সাল প্রথম স্ত্রী থাকার পরেও উপজেলার ফয়সাল শিকদার ভূলতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনের বড় মেয়ে মোসা. রাদিয়াকে বিয়ে করেন। বর্তমানে রাদিয়াকে নিয়ে ঢাকায় বাসা নিয়ে থাকেন ফয়সাল। ফয়সালের ২য় বউয়ের মাতা মোসা. জিনু বেগম ঢাকায় থেকেই নানা ধরণের ব্রবসা সামলান। মাঝেমাঝে থাকার জন্য প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে যুক্ত হন।

২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এক বছরের জন্য ফয়সাল আলম শিকদারকে সভাপতি ও শেখ ফরিদ ভুইয়া মাসুমকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল আলম শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছেলে সন্তান হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এসময় নিজের ছেলের জন্য সবার দোয়া চেয়েছেন তিনি।

ফয়সালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেন।

সর্বশেষ