ঢাকা জেলা আ.লীগের সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত মঞ্চ

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মঞ্চ তৈরির কাজ থেকে শুরু করে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন শুধু সম্মেলন শুরুর অপেক্ষা।

শনিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরের পর রাজধানীর শেরে-বাংলা-নগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠে এই সম্মেলন হবে। সম্মেলনে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

উত্তরের জেলা রংপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ হবে আজ। সেখানে বিপুল নেতাকর্মী উপস্থিত করে রাজনীতিতে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য ও জনসমর্থন প্রমাণ করতে মরিয়া দলটি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগও চাচ্ছে, ঢাকার সম্মেলনে বিপুলসংখ্যক লোকসমাগমের মধ্যদিয়ে বিএনপির রংপুরের সমবেশের উপস্থিতি ছাপিয়ে যেতে। গতকাল এমনই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গতকাল নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, জনসমাগম কাকে বলে তা বিএনপিকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের জন্য ইতোমধ্যে বিরাট মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। দলের প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে সম্মেলনের মঞ্চ। ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে সম্মেলনস্থল। তৈরি হয়েছে শুভেচ্ছা তোরণ। ত্রি-বার্ষিক এই সম্মেলনে আট বছর পর হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

সম্মেলন সফল করতে জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে ধামরাই উপজেলা, সাভার উপজেলা, আশুলিয়া থানা, কেরানীগঞ্জ উপজেলা, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, দোহার উপজেলা ও নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ সাতটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন মোকাবেলায় কাকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, এ নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে।

বর্তমান সভাপতি বেনজীর আহমদ বলেন, ‘সম্মেলন সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষকে জমায়েতের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা যার হাতে জেলার নেতৃত্ব দেবেন তার নেতৃত্বে আমরা কাজ করে যাব।’

সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি। এছাড়া সম্মেলনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালমান এফ রহমান।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা যায়, এবারের কমিটিতে চমক থাকতে পারে। দলকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটিয়ে এবারের জেলা কমিটি হতে পারে।

সম্মেলনকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়েছে ঢাকায়। নেতাকর্মী-সমর্থকরা রাতের ঘুম হারাম করে নিজ নিজ প্রার্থীকে জয়ী করতে লবিং, গ্রুপিং ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। পদ পেতে হাইকমান্ডে আগ্রহীদের লবিং-লিয়াজো চলছে জোরেশোরে। কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও কদর বেড়েছে। তাদের সমর্থন আদায়ে পদ প্রত্যাশীদের যোগাযোগ রয়েছে সার্বক্ষণিক।

ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলে সভাপতি পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে দুজনের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন বর্তমান সভাপতি ধামরাইয়ের বেনজীর আহমদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী কেরানীগঞ্জের নসরুল হামিদ বিপু।

সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে আছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দোহার উপজেলার মাহবুবুর রহমান, ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম সামসুদ্দোহা খান মজলিশের ভাগ্নে সাভার উপজেলার মাসুদ চৌধুরী ও বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নবাবগঞ্জের পনিরুজ্জামান তরুণের নাম শোনা যাচ্ছে।

সর্বশেষ