সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি-গণতন্ত্র মঞ্চ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের সংগঠিত করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, বর্তমান সরকারের পদত্যাগসহ বেশকিছু দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে। এসব দাবিতে আন্দোলন জোরালো করতে একক শক্তির চেয়ে যুগপৎ আন্দোলনে মনোযোগ দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। লক্ষ্য পূরণে অন্যতম শক্তিশালী বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করছে তুলনামূলক ছোট দলগুলো। তেমনি একটি জোট সাত রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’। বিএনপির সঙ্গে আন্দোলন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে নানা কর্মসূচি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’।

চলতি বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘ব্যর্থতার’ প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। ৮ অক্টোবর থেকে ঢাকার বিভিন্ন থানায় সমাবেশের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচি শুরু করেছে। চলতি মাসেই ৮ বিভাগে প্রতিনিধি সভা করবে জোট। এছাড়া চলতি মাসের মধ্যে বিএনপি ছাড়াও সরকারবিরোধী অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলনের উদ্যোগ নেবে গণতন্ত্র মঞ্চ।

 আমরা এই সরকারের পতন চাই। পাশাপাশি স্বৈরাচারী শাসন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন চাই। তাই আমরা এ মাসেই বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করতে চাচ্ছি। আমরা একটি যুগপৎ আন্দোলন চাই। সেই আন্দালনের ভিত্তিগুলো কী হবে সে বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। আমরা চাই সরকার পতনের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কর্মসূচি। কারণ সব বিরোধীদল একসঙ্গে রাজপথে থাকলে মানুষের আস্থা বাড়বে

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাহবাগে এক প্রতিবাদ সমাবেশে গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এ ঘোষণা দেন। এর মধ্যে বিএনপি সারাদেশে বিভাগীয় ও জেলা শহরে দুই মাসব্যাপী সমাবেশ কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে প্রস্তুত করছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে বিএনপি এবং গণতন্ত্র মঞ্চ বিভিন্ন স্থানে পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে কার্যত তাদের যুগপৎ আন্দোলন শুরু হয়েছে। মাঠের এই কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে আরও বৃহত্তর ঐক্য গড়ে আগামীতে গণআন্দোলন শুরু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

 

তাদের মতে, মাত্র এক মাসের মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি বড় ধরনের সমাবেশ এবং বিভাগীয় সমাবেশগুলোর সফলতা দেখে বিএনপি এখন বেশ উজ্জীবিত। গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম শহরে বিভাগীয় জনসভায় বড় ধরনের জনসমাগম ঘটানোর মধ্যদিয়ে প্রায় দুই মাসব্যাপী বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচি শুরু করেছে দলটি। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্যদিয়ে যা শেষ হবে। এরপর পরিপূর্ণ ‘যুগপৎ’ আন্দোলনের কর্মসূচিতে যেতে চায় বিএনপি।

 আমরা চাচ্ছি এ মাসেই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ করতে। দেখা যাক কতটুকু পারি। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি যুগপৎ আন্দোলনের কথা ভাবছি, যেটা ৯০ সালে এরশাদের বিরুদ্ধে করেছি। আমরা সবাই মিলে একই দিনে একই কর্মসূচি দেবো। সমাবেশ করবো, মিছিল হবে। আর সবগুলো মিছিল গিয়ে একসঙ্গে মিলিত হবে। সেখানে সবার স্লোগান থাকবে একটাই

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে জানা গেছে, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং পুলিশের গুলিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রাণহানির প্রতিবাদে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সব রাজনৈতিক কর্মসূচি একাই পালন করবে বিএনপি। এসব কর্মসূচির ফাঁকে ফাঁকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংলাপ সম্পন্ন করা হবে।

বিএনপির চলমান কর্মসূচি প্রসঙ্গে দলের নেতারা জানান, পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের কাছে এই সরকারের ক্ষমতা হস্তান্তর এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীন নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে সারাদেশে জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ গণ–আন্দোলন গড়ার চেষ্টা করছেন তারা। পাশাপাশি অন্য দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য গড়ার কাজ চলছে। আন্দোলনের মূল দাবিগুলো শিগগির উপস্থাপন করা হবে। এরপরও সরকার যদি কর্ণপাত না করে, তাহলে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনে নামবে বলে জানান তারা।

নানা দাবিতে মাঠে সরব গণমন্ত্র মঞ্চ-ছবি সংগৃহীত

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি জাগো নিউজকে বলেন, এই সরকারের পতন ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দালনের জন্য আমরা জনগণের বৃহত্তর ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছি। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপির সঙ্গে আমাদের প্রথম ধাপের আলোচনা হয়েছে। সেখানে বেশকিছু ইস্যুতে আমরা একমত হয়েছি। আবারও আলোচনা হবে। সেখানে ঐক্যের মাধ্যমে রাজপথে কীভাবে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার দাবি আদায় করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলেও জানান তিনি।

 

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আমরা এই সরকারের পতন চাই। পাশাপাশি স্বৈরাচারী শাসন পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন চাই। তাই আমরা এ মাসেই বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করতে চাচ্ছি।

মতবিনিময়ে মূল আলোচ্য বিষয় কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা একটি যুগপৎ আন্দোলন চাই। সেই আন্দালনের ভিত্তিগুলো কী হবে সে বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। আমরা চাই সরকার পতনের জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন কর্মসূচি। কারণ সব বিরোধীদল একসঙ্গে রাজপথে থাকলে মানুষের আস্থা বাড়বে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা চাচ্ছি এ মাসেই বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় শেষ করতে। দেখা যাক কতটুকু পারি। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি যুগপৎ আন্দোলনের কথা ভাবছি, যেটা ৯০ সালে এরশাদের বিরুদ্ধে করেছি। আমরা সবাই মিলে একই দিনে একই কর্মসূচি দেবো। সমাবেশ করবো, মিছিল হবে। আর সবগুলো মিছিল গিয়ে একসঙ্গে মিলিত হবে। সেখানে সবার স্লোগান থাকবে একটাই।

বিএনপির কর্মসূচিতে এখন ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়-ছবি সংগৃহীত

 

মান্না আরও বলেন, বর্তমানে দেশে যত সমস্যা, তার জন্য দায়ী সরকার। আর এই সরকারের বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় নামবে তাদেরই আমরা সমর্থন দেবো। সেক্ষেত্রে বিএনপি ভালো করছে। তাদের সমাবেশগুলোতে অনেক লোকের সমাবেশ ঘটছে।

এ বিষয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালে প্রিন্স জাগো নিউজকে বলেন, আমরা রাজপথে আন্দোলন করছি। অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও করছে। এখানে কর্মসূচির মিল হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচি শুরু হয়নি। আমরা যে সরকারবিরোধী বৃহত্তর ঐক্য করতে চাচ্ছি সামনে, হয়তো যারা রাজপথে আন্দোলন করছে, তাদের নিয়েই যুগপৎ আন্দোলন হবে।

সর্বশেষ