মোটরসাইকেল ১৩টিসহ চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার

হাসানুজ্জামান সুমন,বিশেষ-প্রতিনিধি:
বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ খালেদ হাওলাদার ওরফে সাগর আহম্মেদ ও মোঃ জিসান আহম্মেদ ওরফে সম্রাট। এসময় তাদের হেফাজত থেকে চোরাই ১৩টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর ২০২২) রাজধানীর ডেমরা থানা ও চাঁদপুর জেলার কচুঁয়া থানা এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে ডিএমপির সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম।
আজ শনিবার (২২ অক্টোবর ২০২২) সকাল ১১:৩০ টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।
ডিবি প্রধান বলেন, গত ১৮ অক্টোবর, ২০২২ তারিখে তেজগাঁও থানার ফার্মগেট এলাকার আল রাজী হাসপাতালের সামনে থেকে ভুক্তভোগী মোঃ মোর্শেদের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানায় একটি মামলা রুজু হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিএমপির গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগকে।
গোয়েন্দা প্রধান বলেন, মামলাটি ডিবির সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কাজ শুরু করে একটি চৌকস টিম। প্রথমে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে। পরে রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ খালেদ হাওলাদারকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোঃ জিসান আহম্মেদকে চাঁদপুর জেলার কচুঁয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের অপরাধের কৌশল সম্পর্কে ডিবি প্রধান বলেন, এ চক্রের – মোঃ খালেদ হাওলাদার মোটর সাইকেল চুরি করার জন্য টার্গেটকৃত মোটর সাইকেলের আশপাশে গিয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ঘোরাঘুরি করে। । পরবর্তী সময়ে সুযোগ বুঝে তাদের নিজেদের তৈরি করা চাবি দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাপ্ত তথ্য সম্পকে তিনি বলেন, মোঃ খালেদ হাওলাদার তার সহযোগীসহ বিগত ০৮ বছরে ৫০০-৭০০ মোটরসাইকেল ঢাকা হতে চুরি করে চাঁদপুর, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন লোকের নিকট বিক্রয় করতো মর্মে স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, এছাড়া যারা চুরি করা এবং কম টাকায় এসব চোরাই মোটর সাইকেল ক্রয় করে ব্যবহার করেন তারাও একই অপরাধে অপরাধী।
তিনি আরও বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৫টি মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের যে সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছিল গ্রেফতারকৃতরা উক্ত চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। রিমান্ডের আবেদনসহ বিজ্ঞ আদালতে তাদের প্রেরণ করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ আকরামুল হোসেন এর দিক নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আছমা আরা জাহান এর তত্ত্বাবধানে, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ী চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান এর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

সর্বশেষ