ফয়সালা হবে রাজপথে

 

চট্টগ্রামে বিএনপির সমাবেশে বক্তারা, পথে পথে বাধা হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পোলোগ্রাউন্ডে গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এ বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ুন।

নিরাপদে চলে যান। “সেফ এক্সিট” নিন। তা না হলে পালানোর পথও খুঁজে পাবেন না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই হলো এ সরকারকে এখনই পদত্যাগ করানো। তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। ফয়সালা হবে রাজপথে। আজ যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, সেই আন্দোলন আমরা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেব। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এ সরকারের অবশ্যই পতন ঘটাব এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব ইনশা আল্লাহ।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পাঁচ নেতা হত্যাকান্ডের বিচার

ফয়সালা হবে রাজপথে

, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গতকাল বিএনপি এ বিভাগীয় গণসমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে আসার পথে পথে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলা এবং বাধার মুখে পড়েন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এতে তাদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এসব বাধা ও হামলার কারণে অসংখ্য নেতা-কর্মী সমাবেশে যোগ দিতে পারেননি। 

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের মানুষের উদ্দেশে বলেছেন “দুর্ভিক্ষ আসছে, কম খান, বাতি কম জ্বালান, পানি কম ব্যবহার করুন।” এসব কথা বলছেন এখন, তবে আপনারা আছেন কেন? বিদায় হোন। আমি আগেই বলেছি সেফ এক্সিট করুন।’

চট্টগ্রামের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা কড়া রোদ উপেক্ষা করে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসে সমাবেশে অংশ নেন। মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার নেতা-কর্মীরা এসে এতে যোগ দেন। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, পথে পথে তাদের ওপর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা করেছেন, বাধা দিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। হামলায় আহত হয়ে অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেক স্থানে পুলিশের পক্ষ থেকেও বাধা দেওয়া হয়। আটকে দেওয়া হয়েছে নেতা-কর্মীদের বহন করা গাড়ি ও বাস। এর পরও দুপুর পার হতে না হতেই কানায় কানায় ভরে যায় পোলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশ এলাকা। জনসমুদ্রে পরিণত হয় সমাবেশস্থল।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আবুল হাসেম বক্করের পরিচালনায় গণসমাবেশে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আমানউল্লাহ আমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম আকবর খোন্দকার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী মাহবুবে রহমান শামীম, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি নেতা শামা ওবায়েদ, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কামরুজ্জামান রতন, এস এম ফজলুল হক, ভিপি হারুনর রশীদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ সরকার বাংলাদেশের সমস্ত অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। সেজন্য আমরা বলেছি অবিলম্বে এ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। এ সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে। আমরা বলেছি সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেই নির্বাচন কমিশন গঠন হলে সব রাজনৈতিক দলকে এক করে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন হবে। সেই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন হবে। সেই সরকার হবে জনগণের সরকার।’

তিনি বলেন, ‘আন্দোলন শুরু হয়েছে দেশকে মুক্ত করার জন্য, গণতন্ত্র মুক্ত করার জন্য। এ দেশকে আরেকবার পরাজয় থেকে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে শুরু করেছি গণতন্ত্র মুক্ত করার আন্দোলন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। আর আজকে এ আন্দোলনের সূচনা হলো এই চট্টগ্রাম থেকে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সারা দেশে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একটাই কাজ। তা হলো জনগণের পকেট কেটে অর্থ কামিয়ে বিদেশে পাচার করা। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা ১৯৭১ সালে দেখেছিলাম, যে স্বপ্ন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেখেছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা শুনেছি আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। সবকিছুর দাম এ সরকার বাড়িয়েছে। সবকিছুর দাম বাড়াতে হয় কেন? কারণ একটাই। তারা লুট করে, চুরি করে, ডাকাতি করে। জনগণের পকেট থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করে। কানাডা, লন্ডন ও মালয়েশিয়ায় বাড়ি করে। আর আমার দেশের মানুষ না খেয়ে মারা যায়। অথচ বড় বড় কথা বলে। কিন্তু দেশের শতকরা ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে।’ তিনি বলেন, ‘জনগণের সরকার গঠন করা হলে আমরা সব সমস্যা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব। চাল, ডাল, তেল ও বিদ্যুতের দাম কমিয়ে আনার চেষ্টা করব। বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা করব।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আজ দেশে কারও জীবনের নিরাপত্তা নেই। দিনদুপুরে ডাকাতি হয়। মা-বোনদের কোনো সম্ভ্রম রক্ষা হয় না। মানুষকে হত্যা করা হয়। খুন-গুম করা হয়। এমন এক অবস্থা এসেছে, র?্যাবকে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমি বলি, র?্যাবকে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে হবে না। নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে শেখ হাসিনার সরকারকে। কারণ হাসিনা সরকারের নির্দেশেই গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। কাস্টডিতে নির্যাতন করে অসংখ্য মানুষ মেরে ফেলা হয়েছে এ সরকারের আমলে। তারা নাকি কিছুই জানে না!’

তিনি বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের লোকজন কিছুদিন আগে এসে বলে গেছেন এখানে গুম হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ পৃষ্ঠার রিপোর্টেও তারা বলেছেন বাংলাদেশে মানবাধিকার নেই। দেশে গুম হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়। এখানে বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়।

ডিসি-এসপিরা এই নির্বাচন কমিশনকে মানেন না : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার আবারও আগের মতোই নির্বাচন করতে চায়। সেজন্য একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। কোন নির্বাচন কমিশন? যে নির্বাচন কমিশনকে ডিসি-এসপিরা কেউ মানেন না!

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন তাদের (ডিসি-এসপিদের) ডেকেছে। নির্বাচন কমিশনার তাদের বলছেন “নির্বাচন ঠিক করে করবেন।” ডিসি-এসপিরা বলেছেন “আপনার কথা আমরা মানি না। আমরা শুধু শেখ হাসিনার কথা মানি।” তাদের দিয়ে আপনি নির্বাচন করবেন? এ দেশের মানুষ নির্বাচন হতে দেবে? অসম্ভব! এখানে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, চিকিৎসারও সুযোগ পাচ্ছেন না। কতটা নিকৃষ্ট হতে পারেন তারা? তারা বলেন আমরা কথা বললে খালেদা জিয়াকে আবার জেলে নেবেন। খালেদা জিয়া কখনো জেলের ভয় পান না। বাংলাদেশের মানুষ এখন আর জেলের ভয় পায় না।’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামের গণসমাবেশ বার্তা দিয়েছে এখনই সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। বিদায়ের পালা এসে গেছে, পদত্যাগ করুন।’ তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের মানুষ গণসমাবেশে বুঝিয়ে দিয়েছে, চট্টগ্রামের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। আজকের জনসভা থেকে সারা দেশে যে বার্তাটি যাবে তা হলো- শেখ হাসিনা, আপনি এখনই পদত্যাগ করুন। আগামীকাল, পরশু নয়, এখনই পদত্যাগ করুন।’

সমাবেশে আসার পথে পথে হামলার অভিযোগ : সমাবেশে আসা ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন গতকাল দুপুরে বলেন, তাদের অনেক নেতা-কর্মী মঙ্গলবারই সমাবেশে যোগ দিতে চট্টগ্রামে চলে আসেন। বাকিরা গতকাল আসছিলেন। এ সময় বারইয়ার হাট থেকে সীতাকুন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং নানাভাবে হয়রানি করেছেন। পাশাপাশি সাত থেকে আটটি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেন তারা। একই অভিযোগ করে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, বারইয়ার হাট থেকে সীতাকুন্ড পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তাদের ওপর হামলা হয়। তবে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় আমি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলাম। হামলা কিংবা হয়রানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। সমাবেশে যাওয়া লোকজনের একটি গাড়ি একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দিলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ চাপা দেওয়া গাড়িটি জব্দ করে।’

টেকনাফ উপজেলা বিএনপি সভাপতি হাসান সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশে আসার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নেতা-কর্মীরা। রাস্তায় পুলিশ গাড়ি দাঁড় করিয়ে হয়রানি করেছে।

সমাবেশে চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, পোলোগ্রাউন্ড মাঠে আসার পথে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন তাদের নেতা-কর্মীরা। ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি গাড়ি। তবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ সালাম এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

সমাবেশে গেলে ফিরে আসতে পারবা না- আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি : ‘চট্টগ্রামে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে গেলে এলাকায় আর ফিরে আসতে পারবা না’ বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার এমন একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ধুম ইউনিয়নের ১০টি কমিটির প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে প্রচারণাকালে গোলকারহাট বাজারে জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া এ বক্তব্য দেন। তিনি ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীদের চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমাবেশে না যেতে আওয়ামী লীগ নেতার হুমকি দেওয়া বক্তব্যটি আমি শুনেছি। বিএনপি জেগে উঠেছে। এমন হুমকিকে আর আমাদের নেতা-কর্মীরা ভয় পান না।’ এ ছাড়া গত রাতে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা থেকে আসার সময়ও দলটির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান চৌধুরী ও ওয়ার্ড যুবদলের সহসভাপতি আজিজ চৌধুরীর বাসায় মঙ্গলবার রাতে পুলিশ গিয়েছিল বলে তারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশের আগের রাতে ঘরে ঘরে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ : চট্টগ্রামে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঘরে ঘরে সমাবেশের আগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। বিএনপি স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, চট্টগ্রাম নগরের পোলোগ্রাউন্ড মাঠের সমাবেশে নেতা-কর্মীরা যাতে অংশ না নেন, সেজন্য তাদের ভয়ভীতি দেখাতে রাতের বেলায় বাড়ি বাড়ি পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। তবে নেতা-কর্মীর বেশির ভাগ গত রাতে ঘরে না থাকায় গ্রেফতার এড়াতে পেরেছেন বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, বাসাবাড়িসহ নগরের বিভিন্ন হোটেলে রাতে সাদা পোশাকধারী পুলিশের অভিযান ও নজরদারি ছিল। এজন্য নেতা-কর্মীরা বাড়ির বাইরে ছিলেন। তারা অবস্থান পাল্টে রাতটা কাটিয়ে দেন। শত বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা গণসমাবেশে অংশ নেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ মুন্না, হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মিনহাজ মাসুম ও নগরের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি নিজামুদ্দিনের বাসায়ও আগের রাতে পুলিশ গিয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ইলিয়াস আলী বলেন, তার গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলায় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে রাতে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে তারা কেউ বাসায় না থাকায় পুলিশ তাদের ধরতে পারেনি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) পঙ্কজ দত্ত বলেন, বিএনপির সমাবেশ যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় সেজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে পুলিশ কারও বাসায় অভিযান চালায়নি। পুলিশ কাউকে ভয়ভীতি দেখাতেও যায়নি। কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলে সে ক্ষেত্রে হয়তো পুলিশ অভিযানে যেতে পারে। কিন্তু গত রাতে গণহারে গ্রেফতারের কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই।

গতকাল চট্টগ্রাম শহরে বিভাগীয় সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির টানা দুই মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা শেষ হবে ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে।

সর্বশেষ