‘আন্দোলন চূড়ান্তের পরই সংসদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত’

 

আন্দোলন চূড়ান্ত হওয়ার পর বিএনপির সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দশ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সমাবেশগুলোর মধ্য দিয়ে জনগণের একটি অভ্যুত্থান হবে। জনগণ বেরিয়ে আসবে। তাদের সঙ্গে নিয়েই এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করব।

মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ইসলামী ঐক্যজোট ও ডেমোক্রেটিক লীগের সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

২০ দলীয় জোটে থাকা এ দুটি দলের সঙ্গে পৃথকভাবে সংলাপ করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে মহাসচিব ছাড়াও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বিকাল ৪টা থেকে ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যপী সংলাপ হয়। দলটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মাওলানা আব্দুর রকিবের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আহসান, যুগ্ম সম্পাদক সামছুল হক, কামরুজ্জামান রোকন, প্রচার সম্পাদক আনওয়ান আনসারী, নরসিংদী জেলার সভাপতি নাসির উদ্দীন, কুমিল্লা জেলার সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস রেজা, সদস্য আব্দুল কাদির ও মজিবুর রহমান।

এরপর বিকাল ৫টায় সংলাপ হয় ডেমোক্রেটিক লীগের সঙ্গে। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দীন আহমেদ মনির নেতৃত্বে অংশ নেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহতাজ আহসান, প্রচার সম্পাদক কাউসার আলী, তথ্য গবেষণা সম্পাদক ইয়াহিয়া মুন্না ও দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আল আমিন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্র হরণকারী, মানবাধিকার লংঘনকারী লুটেরা সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু দিন ধরেই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছি। ইতোমধ্যে এক দফা আলোচনা শেষ করেছি। দ্বিতীয় দফায় এখন মূল দাবিগুলো নিয়ে কথা বলছি। ইতোমধ্যে ১১টি দলের সঙ্গে সংলাপ হয়েছে। ডেমোক্রেটিক লীগ ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আলোচনায় মূল দাবি হচ্ছে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ রাজনৈতিক কারণে ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। এই অনির্বাচিত সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

‘সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার অথবা দল নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। সেই নিরপেক্ষ সরকার একটি নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। তারা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট, নতুন সরকার গঠন করা হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেই সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালনির মূল্যবৃদ্ধি, দুর্নীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষভাবে কাজ করা ইত্যাদি বিষয়ে। আমরা একমত হয়েছি, এই সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলব। তাদেরকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে। এখানে ১০ দফা বলতে কিছু নেই। সবার সঙ্গে আলোচনা করে দফা চূড়ান্ত করা হবে।’

সর্বশেষ