তারাকান্দা পরিবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’র যাত্রা শুরু

তারাকান্দা প্রতিনিধিঃ

“হাতে হাতে বই, জ্ঞান তপস্যায় রই” এই স্লোগানকে ধারণ করে অনলাইন & অফলাইন ভিত্তিক প্লাটফর্ম ‘তারাকান্দা পরিবার’ সুশিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ‘তারাকান্দা পরিবার ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের ১০ অক্টোবর আজকের দিনে যাত্রা শুরু করছে।

লাইব্রেরির ঠিকানা হিসেবে বলা হয় ‘তারাকান্দা পরিবার’ এর প্রতিটি পাঠকই ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির ঠিকানা। যেখানে নির্দিষ্ট কোন অফিস বা লাইব্রেরিতে বই রাখা হবেনা, হাতে হাতেই বই ঘুরবে। তাই এর স্লোগান হচ্ছে “হাতে হাতে বই, জ্ঞান তপস্যায় রই”।

তারাকান্দা পরিবারের উপদেষ্টা শাহাদাৎ হোসেন বলেন-
“পাঠক তৈরিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক বই বিতরণ এবং মননে ও পঠনে সুশিক্ষিত নাগরিক গড়ে তোলার প্রয়াস”। এই লাইব্রেরির সদস্য হিসেবে কেবল ‘তারাকান্দা পরিবার’ এর সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই পাঠক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিভিন্ন ধরনের বইয়ের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সেরা ১০০ বই নিয়েই এটার যাত্রা শুরু হবে যেগুলো নির্ধারণ করবে ‘তারাকান্দা পরিবার’ এর এডমিন,মডারেটরদের মতানুযায়ী।

এছাড়াও তারাকান্দা পরিবার এর প্রতিনিধি দলের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, পর্যায়ক্রমে দেশ এবং বিদেশী ভাষার বাংলা অনূদিত বইগুলোও সংগ্রহে রাখা হবে। তারাকান্দা পরিবারের এডমিন ও মডারেটর প্যানেল বই বাছাইয়ে তদারকি করবে। এক্ষেত্রে অন্য যে কারো পরামর্শ পরিবারটির নিয়মের সাথে মিলে গেলে তাদের দেয়া বইয়ের নামও তাতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন যে, একটি জাতি গঠনে লাইব্রেরীর গুরুত্ব অপরিসীম এমন যে কেউ এই কাজে সহযোগিতা করতে পারেন, বই গিফট করতে পারেন। বই পড়ার নিয়ম ও হাতে রাখার সময় সীমা নির্ধারণ করা আছে। যে কোন সদস্য বা পাঠক একটি বই সর্বোচ্চ ১৫ দিন রাখতে পারবে, তবে শর্ত এটাই যে, বইটি পড়ে অন্যজনকে পড়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তা ছাড়াও প্রতি মাসে তারাকান্দা উপজেলার যে কোন নির্ধারিত স্থানে বইয়ের উপর আলোচনা পেশ করার সুযোগ রাখা হবে। এই কাজ পরিচালনার জন্য ইউনিয়ন প্রতিনিধি, উপজেলা প্রতিনিধি, কলেজ প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে কেবল ইচ্ছুক পাঠকদের মধ্য থেকে। স্কুল থেকে সাড়া পেলে তাদের নিয়েও কাজ করবে কর্তৃপক্ষ। প্রতিনিধিদের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একটি স্পেশাল প্যানেল গঠন করা হবে একজনকে প্রধান বানিয়ে, তার স্পেশাল সহযোগি থাকবে আরো পাঁচজন। সেখানে বইয়ের হিসাব , পাঠক হিসাব, বই বিতরণ আপডেট, নতুন কেনা বইয়ের চার্ট তৈরি, নির্ধারিত বইয়ের উপর আলোচনা পেশ এতদসংক্রান্ত। শুধু তাই নয়, পাঠকদের মধ্য থেকে শ্রেনিবিন্যাস থাকবে এবং তাদের পদবি থাকবে।
কমপক্ষে দুই শত বই পড়লে “ডায়মন্ড পাঠক”, কমপক্ষে দেড় শত বই পড়লে “গোল্ডেন পাঠক”, কমপক্ষে এক শত বই পড়লে “সিলভার পাঠক”, পঞ্চাশ টি বা তারও কম বই পড়লে“সাধারণ পাঠক” হিসেবে গন্য করা হবে। উল্লেখ্য,বইগুলো ‘তারাকান্দা পরিবার’ গড়ে তোলা ভ্রাম্যমান লাইব্রেরীর অন্তর্ভুক্ত বইয়ের লিস্টভুক্ত হতে হবে।
যেখানে আজকাল মানুষ বই থেকে দূরে চলে যাচ্ছে সেখানে এই উদ্যোগ মনুষ্যত্ব বিকাশে, মেধা বিকাশে, জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে,এমনটাই আশাবাদী সবাই।

তারাকান্দা পরিবার এর এডমিন মডারেটর প্যানেল তারাকান্দা পরিবার ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’র বই ক্রয় করার জন্য বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছে।

সর্বশেষ