নরসিংদীতে পাকা রাস্তার অভাবে জন-দুর্ভোগ চরমে 

সাইফুর নিশাদ, নরসিংদী প্রতিনিধিঃ

নরসিংদির মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মনতলা গ্রামের প্রায় ৭০০ মিটার রাস্তা পাকা না করায় জনদুর্ভোগ চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।১ং ওয়ার্ডের উত্তর মনতলা,দক্ষিন মনতলা ও ভাওয়ালীয়াপাড়া গ্রামের প্রধান প্রধান রাস্থা গুলোর দূর্দশা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব রাস্থা দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে কাদাঁ ভেঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষায় রাস্থাগুলো অতিরিক্ত মাত্রায় কাদাঁ হয়ে যাওয়ার ফলে সাইকেল,মোটরসাইকেল, তো দূরের কথা মানুষ পায়ে চলাফেরা করতে হিমশিম খাচ্ছে। বিকল্প কোন রাস্তা না থাকায় গ্রামবাসীরও বাধ্য হয়েই কাদাঁ পানি মাড়িয়ে প্রতিনিয়ত চলাফেরা করছে।
দেশ মুক্ত(স্বাধীন) হওয়ার পর থেকে ডিজিটাল বাংলায় রুপান্তর হলেও রাস্তা গুলো এখনোও অন্ধকার যুগেই স্থির রয়েছে। অল্পমাত্রায় বৃষ্টি হলেই চলাচলে একদম অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বছরের পর বছর মানুষের দুর্ভোগ মেনে নিতে হচ্ছে। কাচা রাস্তা পাকা হবে এ আশায় এলাকাবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুনে যাচ্ছে। কিন্তু অপেক্ষার প্রহরের অবসান হচ্ছেনা। জনপ্রতিনিধিরা প্রতিবার নির্বাচনের আগে ভোট চাইতে এলে মিষ্টি সুরে প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছেন।কিন্তু আজোবধি এই রাস্তা গুলোতে কোন কাজ হয়নি।সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষ করা গেলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা পানিতে একাকার। রাস্তা গুলোর মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। আর তাতে প্রতিনিয়ত জমছে পানি। চলাচল করতে পারছেনা দূর দুরান্ত থেকে আসা শত শত শিক্ষার্থীদের সাইকেল,শিক্ষার্থী বহন করা অটো,গ্রামবাসীদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত ভ্যানগাড়ি, অটো, সি এন জি। পায়ে হেটে চলাচল করাও হয়ে পড়ে কষ্টসাধ্য। রাস্তাগুলো পাকা হলে গ্রামের শিক্ষার্থী সহ দূর দুরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ও যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে।অন্যদিকে মুমূর্ষ রোগী বহনে বেগ পেতে হবেনা।শ্রমজীবী মানুষেরাও ভ্যানগাড়ি,অটোরিকশা চালিয়ে ধান, পাট,কাচা ফসল কম খরচে হাটে নিয়ে বিক্রি করতে পারবেন।
মুরব্বি এলাকাবাসীর অভিযোগ এ রাস্তা গুলো তাদের জন্মলগ্ন থেকেই এমন দুর্দশাগ্রস্ত দেখে আসছেন। প্রতিবার জনপ্রতিনিধিরা স্বপ্ন দেখালেও পূরন হয়নি একালেও। তারা ভাবছিলেন ডিজিটালের দাপটে গ্রাম হবে শহর এর স্লোগানের সাথে সাথে আমাদের রাস্তাগুলো এবার বুঝি পাকা হবে। কিন্তু তাতেও গুড়েবালি।তাই জীবদ্দশায় তারা আর পাকা দেখে যেতে পারবেনা। এ গ্রামের শিক্ষার্থীরা এসব রাস্তাগুলো ব্যবহার করে প্রাইমারি, কিন্ডারগার্টেন থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা করতে এই রাস্তাগুলো দিয়ে খিদিরপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়,খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ,মনতলা সিনিয়র ফাযিল ডিগ্রী মাদ্রাসা সহ প্রায় ৫/৬ টি কিন্ডারগার্টেনে যায়।

মনতলা গ্রামের শহিদুল্লাহ(৬০) বলেন ১ং ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াতের উল্লেখিত রাস্তাগুলো বর্ষার দিনে একেবারেই চলাচল করা যায়না। অনেক সময় রাস্তায় মানুষ পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন। অটো, মোটরসাইকেল, ভ্যান গাড়ি সাইকেল, কাদার মধ্যে ঢেবে গিয়ে উল্টে যায়। প্রসুতি কিংবা গুরুতর রোগী হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে নেওয়ার জন্যে এম্বুলেন্স কিংবা গাড়ি গ্রামের ভিতরে ঢুকানো যায়না। আমাদের এই দুর্ভোগ দেখার বুঝি কেউ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের (৬০)জানান দিনের বেলা কোনো রকম জুতা হাতে নিয়ে পার হওয়া যায় কিন্তু রাতের বেলা চলাচলের কোন সুযোগ থাকেনা।আমরা এলাকাবাসী সর্বস্থরের লোকজন এসব রাস্তা দ্রুত পাকা হওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে খিদিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান জানান রাস্তাগুলোর আয়ডি হয়ে গেছে জমাও দেওয়া হয়েছে এখন বাস্তবায়ন হলেই কাজ শুরু হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যানও একই কথা বলেন এবং তিনি দুর্ভোগের কথা অনুধাবন করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এলজিইডির প্রকৌশলকে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহবান করবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশল মীর মাহিদুল ইসলাম জানান রাস্তাগুলোর পরিচিতি হয়ে গেলেও সরকার থেকে আমরা রাস্তাগুলোর জন্যে বরাদ্দ পায়নি। বরাদ্দ আসলে অতি দ্রুতই রাস্তাগুলোর কাজ শুরু হবে।

সর্বশেষ