হঠাৎ বেড়েছে লোডশেডিং, ভোগান্তি

 

চলতি মাসে হঠাৎ লোডশেডিং বেড়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় লোডশেডিং হয়েছিল ৩০০ মেগাওয়াট। অক্টোবর থেকে পুরোপুরি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের কথা বলেছিল বিদ্যুৎ বিভাগ। সারা দেশে ৬ই অক্টোবর এক হাজার ৯০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে । রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় ৩/৪ বারও বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। ঢাকার বাইরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আরও বেশি।  গতকাল মহানগরীর মগবাজার মধুবাগ এলাকায় সকালে দুপুরে ৩/৪ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন সেখানকার গ্রাহকরা। শুধু মগবাজার এলাকায়ই নয়, হাজারীবাগ এলাকায় দু-তিনবার বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করেছেন সেখানকার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম। তিনি বলেন, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

 

ঢাকার বাইরে রাতের দিকে বাড়তে থাকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। সারা দেশে গত বৃহস্পতিবার লোডশেডিং ধরা হয় ১ হাজার ৯০ মেগাওয়াট। যা এক সপ্তাহ আগে (৩০শে সেপ্টেম্বর) ছিল শূন্য মেগাওয়াট।  বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশে গত ২৪শে আগস্ট থেকে অফিস আদালত সকাল ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত চলছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দুইদিন ছুটি ভোগ করছে। 

তারপরেও কেন বিদ্যুতের লোডশেডিং, প্রশ্ন সাধারণদের। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিদ্যুতের চলমান লোডশেডিংয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের বলেন, এখন বেশি লোডশেডিং হচ্ছে না। ৫০০ থেকে ৬০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের কথা স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, মেঘনা ঘাটে দুইটি পাওয়ার প্ল্যান রিস্টোর হলে আর লোডশেডিং হবে না। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ৬ই অক্টোবর কর্মদিবসে সারা দেশে সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এই সময়ে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৮০৮ মেগাওয়াট। তাতে লোডশেডিং ধরা হয় ১ হাজার ৯০ মেগাওয়াট। প্রাক্কলিত সর্বনিম্ন উৎপাদন ধরা হয় ৯ হাজার ৭৩৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। পিডিবি’র ওয়েব সাইটে উল্লিখিত বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় লোডশেডিং ধরা হয়েছে ৩০০ মেগাওয়াট এবং চাহিদা ৪ হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম এলাকায় লোডশেডিং ১২০ মেগাওয়াট এবং চাহিদা ১ হাজার ২৫২ মেগাওয়াট, খুলনা এলাকায় ১৬০ মেগাওয়াট এবং চাহিদা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৫২ মেগাওয়াট, রাজশাহী এলাকায় ১৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং এবং চাহিদা ১ হাজার ৪৬৬ মেগাওয়াট, কুমিল্লা এলাকায় ১২৫ মেগাওয়াট এবং চাহিদা ১ হাজার ২৪৮ মেগাওয়াট, ময়মনসিংহে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং এবং চাহিদা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩১ মেগাওয়াট, সিলেটে ৪৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং এবং চাহিদা ৪৬১ মেগাওয়াট, বরিশাল অঞ্চলে লোডশেডিং শূন্য এবং চাহিদা ৩৭৬ মেগাওয়াট, রংপুর অঞ্চলে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং চাহিদা ৮১৪ মেগাওয়াট।

যদিও দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে সাড়ে ২৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এদিকে, গত ৭ই আগস্ট বিদ্যুৎ ভবনে শিল্পকারখানার মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদ্যুৎ বিভাগ চিন্তা করছে, আস্তে-আস্তে লোডশেডিং থেকে বেরিয়ে আসার জন্য। তিনি বলেন, আস্তে-আস্তে আমাদের গ্যাসের পরিমাণ বাড়িয়ে নিয়ে আসবো, কিছুটা ব্যালেন্স করার চেষ্টা করবো। ব্যালেন্স করে হয়তো অক্টোবর থেকে আমরা পুরোপুরি আগের অবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দিকে যেতে পারবো।

গত ১৮ই জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকের পর দেশে গত ১৯শে জুলাই থেকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশজুড়ে এলাকাভিত্তিক লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রতিদিন এক সপ্তাহ জোনভিত্তিক একঘণ্টা করে লোডশেডিং করার কথা বলা হলেও কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি লোডশেডিং করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়। এ ছাড়া রাত ৮টার পর শপিংমলসহ দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর এবং  উপাসনালয়ে প্রার্থনার সময় ছাড়া এসি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বানও জানানো হয় সরকারের তরফে। রাত ৮টার পর দোকানপাট, মার্কেট, শপিংমল খোলা থাকলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। রাত ৮টা থেকে কোনোরকম দোকানপাট, শপিংমল, আলোকসজ্জা- সব বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা হয়েছে, তারা খুব কঠিনভাবে এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। যদি কেউ অমান্য করেন তাদের বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছিল।

সর্বশেষ