সংবিধানে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

হাসানুজ্জামান সুমন,বিশেষ-প্রতিনিধি:
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছিল যে চারটি মূলমন্ত্রের অধীনে যার মধ্যে অন্যতম ছিল জাতি রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ। রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকতে পারে না। সংবিধানে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার)। সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী সর্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাবাজার দুর্গোৎসব পূজা কমিটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে এ কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, যখন মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কেউ কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে এই যুদ্ধে যায়নি। বঙ্গবন্ধুর আহবানে সবাই অভিন্ন জাতিসত্তা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই এই যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। যার ফলে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র তৈরি হলো। এদেশ স্বাধীন করার জন্যজাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এ দেশকে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
দুর্গোৎসবে আগত পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা আসলে আপনারা খুশি হন এবং আমরাও আপনাদের দেখলে খুশি হই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। অনেকে তার ভুল ব্যাখ্যা করেন। এটা আসলে ভুল ব্যাখ্যা করার বিষয় না। আমরা এখানে এসেছি আমাদের সনাতন ধর্মের যে ভাইয়েরা আছে তাদের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য।
আমাকে দেখলে তারা যদি খুশি হয়, তাদের মধ্যে যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় তাহলে এখানে আমার আসা উচিত। এটা আমার দায়িত্বের ভিতরে পড়ে। এটার সাথে ধর্মকে জড়ানোর কোন অর্থ নাই। একটি জাতি রাষ্ট্র হিসেবে একজন আরেকজনের পাশে যদি নাই দাঁড়াতে পারলাম, তাহলে আমরা একটা দেশ হলাম কিভাবে, জাতি হলাম কিভাবে?
আমাদের বাঙালির যে দর্শন সে দর্শন হলো ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। মানুষ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে তো আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করি। কোন মানুষ অন্য ধর্মের মানুষকে আক্রমণ করতে পারে না।
তিনি আরো বলেন,আমরা আপনাদের অনুরোধ করবো নির্ভয়ে এ বাংলাদেশে আপনার ধর্ম পালন করবেন। আপনাদের সুরক্ষার দেয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রের পক্ষে পুলিশের। আর আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনার বিপদে-আপদে আপনার ভাই হিসেবে, যেভাবেই আমাদের মূল্যায়ন করেন না কেন আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি। আমরা সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিকও। আমরা বুঝিয়ে দিতে চাই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নাই।
এ সময় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এ কে এম হাফিজ আক্তার, বিপিএম (বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মুনিবুর রহমান; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ আসাদুজ্জামান, বিপিএম(বার); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, বিপিএম (বার), পিপিএম;‌যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ