“শিক্ষক দিবস নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভাবনা”

আজ ৫ অক্টোবর ২০২২ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। সভ্যতার আদি লগ্ন থেকে জাতি গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ‘শিক্ষক’ নামের মহান শিক্ষাগুরু যারা শিষ্যদের আলোর দিশারী। শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনেস্কোর মাধ্যমে সারা বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে ইউনেস্কো প্রতি বছর একটি স্লোগান প্রকাশ করে। এবারের স্লোগান “শিক্ষার রুপান্তর শুরু হয় শিক্ষকের দ্বারা”।

পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের স্থান। শৈশবের দুরন্তপনা, স্তরে স্তরে বড় হওয়া, মানুষের মতো মানুষ হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পেছনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। জীবনের অনুপ্রেরণা, ভরসা ও সাহস যোগানোর দূত হিসেবে আবির্ভূত হন তারা। আদর-স্নেহ এবং সময়ের প্রয়োজনে শাসন করে সঠিক পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান আমাদের।
‘তুমি পারবে’ ‘তোমাকে দিয়ে সম্ভব’ কথাগুলোর মাহাত্ম্য বিশাল। জীবন স্রোতের কঠিন মুহুর্তগুলোতে শিক্ষাগুরুর এই কথাগুলোই ভীষণরকম সাহস জোগায়। একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রাপ্তি তখনই আসে যখন তার ছাত্র-ছাত্রীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়।

তবে, বিশ্ব শিক্ষক দিবস নিয়ে আমাদের শিক্ষকদের ভাবনা কী তা-ই জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব শিক্ষকরাই শিক্ষক হয়ে উঠুক,সব শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থী হয়ে উঠুক।

আমতৈল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক
সজীবুজ্জামান সজীব বলেন, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সবাইকে অভিনন্দন। একজন শিক্ষক হিসেবে এ পেশায় আসতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করি। তবে আমাদের দেশের শিক্ষক সমাজ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। তাই এই মহান পেশায় মেধাবীরা আসতে চায় না। সরকারের উচিত শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।’

মহান এই শিক্ষক দিবস নিয়ে শিক্ষার্থীরাই বা কী ভেবে থাকে! শিক্ষক দিবস নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা সুমি বলেন, মা বাবার পরে শিক্ষকই আমাদের ব্যক্তিত্ব গঠনকারী গুরুত্বপূর্ণ সত্তা। একজন শিক্ষকের জন্যেই আমরা আমাদের চিন্তাশীলতার পরিধি অনুভব করতে পারি এবং সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি সঞ্চয় করতে পারি।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। আমাদের সবার উচিৎ শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করা। কিছুদিন আগে নড়াইলে একজন শিক্ষককে লাঞ্চিত করা হয়েছিল। আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। সরকারের উচিত এ বিষয় গুলোতে সজাগ দৃষ্টি রাখা।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী উজ্জ্বল হক বলেন, নানা সময় শিক্ষকদের সামাজিক নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে আমরা বিভিন্ন বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। সুষ্ঠ ছাত্র-শিক্ষক মিথষ্ক্রিয়া ও নৈতিকতার চর্চাই পারে এই পেশার মাহাত্ম্য ধরে রাখতে।

আজকের শিক্ষকেরা আগামীর বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। শিক্ষকদের মানোন্নয়ন ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন হবে না। ফলে শিক্ষকের দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সম্মানের বিষয়ে যত্নশীল হওয়ার মাধ্যমেই আগামীর স্বনির্ভর ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

লেখকঃ মারিয়াম আক্তার শিল্পী
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

সর্বশেষ