মাছের দাম বাড়তি চাল-ডাল, আটা-ময়দা, সয়াবিন তেলে স্বস্তি নেই ক্রেতার

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ইলিশের দাম কিছুটা কমলেও এখনো নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। সস্তার তালিকায় থাকা তেলাপিয়া-পাঙ্গাশের দামও বাড়তি। মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতারা নাখোশ।

চাল-ডাল, আটা-ময়দা, সয়াবিন তেলে স্বস্তি নেই ক্রেতার

 

 

বিক্রেতারা বলছেন, মাছের সরবরাহ কিছুটা কম। পরিবহন খরচ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তাই মাছেরও দাম বেড়েছে।
অন্য সব নিত্যপণ্যেও সুখবর নেই। চাল-ডাল, আটা-ময়দা, সয়াবিন তেল কোনো কিছুতে ক্রেতার স্বস্তি নেই। আদা-রসুন কিনতে ভোক্তাকে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, উত্তর বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঝারি আকৃতির প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৮০ টাকা। মাঝারি পাঙ্গাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকা। এক কেজি রুই ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, যা আগে ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। দেড়-দুই কেজি রুই ৩১০ থেকে ৩৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা। বড় রুইয়ের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। বড় কাতলা মাছ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। মাঝারি কার্প মাছ প্রতি কেজি ২২০ টাকা। ছোট মাছের দামও বেড়েছে। কাঁচকি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, চাষের কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও ছোট চিংড়ি ৬০০ টাকা।

ইলিশের দাম কিছুটা কমে কেজিপ্রতি এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

জোয়ারসাহারা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাছের সরবরাহ কমার কারণে আড়তেই মাছের দাম বেশি। এ জন্য খুচরা বাজারে সব ধরনের মাছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ’

উত্তর বাড্ডার আড়তের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী লোকনাথ  বলেন, ‘বাজারে এখন মাছের দাম বাড়তি। খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় মাছ চাষিদের খরচ বেড়ে গেছে। তাঁরাও বেশি দামে মাছ বিক্রি করছেন। ’

মাছের দাম বাড়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ফিশ ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হামিদুল হক  বলেন, ‘বাজারে এখন যেসব মাছ বিক্রি হচ্ছে, এর প্রায় ৯৫ শতাংশ চাষের মাছ। খাদ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছের দাম বেড়ে গেছে। বন্যায় পুরো সিলেট বিভাগ, শেরপুর, নেত্রকোনো, জামালপুর ও ময়মনসিংহের অনেক পুকুর-ফিশারি তলিয়ে গিয়েছিল। এসব অঞ্চল থেকে বাজারে মাছ আসছে না, যার প্রভাবে এখন বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেছে। ’

তিনি বলেন, ‘আগামী ২০ দিনের মধ্যে হাওর-বিলের পানি কমে আসবে। তখন এসব মাছও বাজারে চলে আসবে। দাম আবার কিছুটা কমে আসবে। ’

রামপুরা বাজারে একটি ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি সারোয়ার হোসেনের বলেন, ‘চাল, তেল, মাছ, মাংসসহ বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই, যা কয়েক দফা দাম বাড়েনি। দফায় দফায় নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় জীবন যেন আর চলছে না। কারণ আমাদের আয় তো বাড়ছে না। ’

মুরগি সেই চড়া দামেই

আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি। ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স মা আয়েশা ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। মুরগির খাদ্যের বাড়তি দাম এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা কম। ’

চাল-আটায় স্বস্তি নেই

সপ্তাহের ব্যবধানে আবার বেড়েছে আটার দাম। প্রতি কেজি খোলা আটা কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত আটা আগের বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। দুই কেজি ওজনের আটার প্যাকেট ১২৫ টাকা। চাল আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। মোটা ব্রি ২৮ চাল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিনিকেট বলে পরিচিত চিকন চাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা ও নাজিরশাইল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি। চিকন মসুরের ডাল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি। মোটা মসুরের ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। আমদানি করা আদা প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, দেশি আদা ১২০ টাকা। আমদানি করা রসুন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা ও দেশি রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা। ডিম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি ডজন ডিম ১৪৫ টাকা।

সবজির দাম বেড়েছে

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে কয়েকটি সবজির দাম পাঁচ থেকে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি শসা ৮০ টাকা, পটোল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ছোট ফুলকপি ৫০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ৮০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, গাজর ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ