কাউকে কাফির বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

 

আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.)

যে ব্যক্তির মনে নিজের পরিণাম এবং পরকালের চিন্তা থাকে তার মুখ অন্যের ব্যাপারে কখনোই লাগামহীন হতে পারে না, সে ব্যক্তি কোনো অবিশ্বাসী কাফেরকেও হীন দৃষ্টিতে দেখে না। কেননা সে কাফেরের পরিণাম কী হবে তা যেমন তার জানা নেই, তেমনি নিজের পরিণাম কী হবে তাও তো সে জানে না। কোনো এক ফার্সি কবি বলেছেন, ‘কোনো কাফের ব্যক্তিকেও হীন চোখে দেখবে না। কেননা এমনও হতে পারে যে লোকটা মৃত্যুর আগে মুসলিম হয়ে যাবে।

 

কাউকে কাফির বলার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

 

আলেমরা বলেন কেন? : ফাতাওয়া দানকারী আলেম তথা মুফতিদের বাধ্য হয়ে এমন ফায়সালা করতে হয় যে কোন লোকটি মুসলিম আর কোন লোকটি কাফের। কোন ব্যক্তি পুণ্যবান আর কোন ব্যক্তি পাপাচারী। অন্যথায় কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে এ জাতীয় বিশেষণ আরোপ করা বড়ই কঠিন। এ ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

আলেমরা কাউকে কাফের বানান না : সত্যের অনুসারী আলেমরা সর্বদা বিষয়টি গুরুত্বসহ লক্ষ্য রাখেন। তা সত্ত্বেও কিছু এমন লোক, যারা চিন্তাশীল নয়, তারা সম্মানিত আলেমদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে এবং অবজ্ঞার সঙ্গে কথা বলে। তারা বলে, আলেমরাই ফাতাওয়া দিয়ে মানুষকে কাফের ও মুরতাদ বানান। তাদের উত্তরে আমি বলি, আলেমরা কাউকে কাফের বানান না; বরং তাঁরা কাফেরদের পরিচয় চিহ্নিত করেন। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কারণে কাফের হয়ে যায়, অথচ তার পরিচয় গোপন থেকে যায়, তখন তার সম্পর্কে মুসলিমদের সতর্ক করতে ব্যক্তির পরিচয় উন্মোচন করেন। মানুষকে বলে দেন, এই লোকটি নিজের কাজের কারণে কাফের হয়ে গেছে।

ভিন্নমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন : আমাদের শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াকুব (রহ.) নিজে ভিন্নমত পোষণ করেন এমন মাসআলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদার মন-মানসিকতা লালন করতেন। আমি তাঁর কাছে একবার এমন একটি মাসআলা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, যে মাসআলার ব্যাপারে মুহাম্মদ ইয়াকুব (রহ.) ও মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর মতভিন্নতা ছিল। তাঁদের ফাতাওয়াও ছিল বিরোধপূর্ণ। তিনি আমার প্রশ্নের উত্তর নিজের বিশ্লেষণ মতে মাসআলা বললেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি এ কথাও বললেন যে এই ক্ষেত্রে মাওলানা গাঙ্গুহির ফাতাওয়া এরূপ। এখন আপনার ইচ্ছা আপনি যেকোনো একটির ওপর আমল করতে পারেন।

আল্লাহ সবাইকে সহনশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন

মাজালিসে হাকিমুল উম্মত

থেকে সংগৃহীত

সর্বশেষ