‘লাগাতার তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের কোমর ভেঙে দিয়েছে’: জয়শঙ্কর

রাশিয়া-ইউক্রেন দ্বন্দ্বের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারতের মত উন্নয়নশীল দেশের জ্বালানি চাহিদার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, বিদেশ মন্ত্রী বলেছেন – ”’লাগাতার তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের কোমর ভেঙে দিচ্ছে। ‘ভারত মার্কিন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সাথে তার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জয়শঙ্কর যোগ করেছেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলি কীভাবে তাদের শক্তির চাহিদাগুলিকে মোকাবেলা করবে তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে জয়শঙ্কর বলেছেন – ”আমরা ব্যক্তিগতভাবে, প্রকাশ্যে, গোপনীয়ভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে জানিয়েছি  যে এই সংঘাত কারও স্বার্থে নয়। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে  সমস্যার সমাধান করাই সবচেয়ে ভালো পথ। ”সম্প্রতিই রাশিয়া অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ানোর পরই ভারতের তরফে জানানো হয়েছে যে আপাতত তারা রাশিয়ার ক্রুড তেল কেনা থেকে বিরত থাকবে। এর বদলে মধ্য প্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকেই তেল কিনবে ভারত, এমনটাই সূত্রের খবর। এই প্রসঙ্গ নিয়েই  বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের মাথা পিছু ২০০০ ডলারের অর্থনীতি। তেলের দাম নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। ক্রমাগত তেলের মূল্যবৃদ্ধি আমাদের কোমর ভেঙে দিচ্ছে।

এটা আমাদের কাছে যথেষ্ট বড় উদ্বেগ। ”মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি অ্যান্টনি ব্লিনকিনের সঙ্গে বৈঠকের পর বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, দুই দেশের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের একটি মূল্য বেঁধে দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। মার্কিন সচিব অ্যান্টনি ব্লিনকেনও বলেন, “আমরা নিজেদের অংশীদারদের সঙ্গে কথা বলছি, কাজ করছি যাতে তেল বিক্রি করে উপার্জিত অর্থ ইউক্রেনের যুদ্ধকে আরও বাড়াতে সাহায্য না করে। ”জয়শঙ্করের মতে, গত কয়েক মাসে শক্তির বাজারগুলি ইতিমধ্যেই খুব চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশ্বের  দক্ষিণের দেশগুলি সীমিত শক্তির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কঠিন বলে মনে করেছে, শুধু মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নয়, প্রাপ্যতার ক্ষেত্রেও।” ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দাম এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে, ভারতে রাশিয়ান তেল আমদানি ৫০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।এই প্রবণতাটি পশ্চিমের উন্নত দেশগুলির সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা ইউক্রেন আক্রমণ-পরবর্তী রাশিয়ার সাথে তাদের শক্তি বাণিজ্য ধীরে ধীরে কমিয়ে দিচ্ছে। এখন রাশিয়ান তেল বিদেশ থেকে আমদানি করা মোট অশোধিত তেলের ১০ শতাংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারত যে তেল আমদানি করেছিল তার মাত্র ০.২ শতাংশ ছিল রাশিয়ান তেল। এমনকি যখন পশ্চিমা দেশগুলির দ্বারা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলি ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপকে খুব কমই প্রভাবিত করছে, তখন G-7 দেশগুলি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ক্রেমলিনের রাজস্ব সীমিত করার জন্য রাশিয়ান অশোধিত এবং পরিশোধিত পণ্যের উপর  সীমা টেনেছে। ইউরোপের দেশগুলি কম দামে তেল কেনার জন্য মধ্যস্থতার পথ খুঁজছে। রাশিয়ান তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে জোটে যোগদানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণ সত্ত্বেও, নয়াদিল্লি কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে “সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করবে” বলে যোগদান করা থেকে বিরত থেকেছে।

 

সূত্র : livemint.com

সর্বশেষ