করতোয়ায় আরেক মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ৬৯

নিহত হিমালয় চন্দ্র রায় দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যায় স্নতকোত্তর চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পঞ্চগড়ে করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির চতুর্থ দিনে আরেকজনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

বুধবার দুপুরে বোদা উপজেলার আউলিয়ার ঘাট থেকে এক কলেজছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় জানিয়েছেন।

এ নিয়ে এই নৌকাডুবির ঘটনায় ৬৯ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হলো; এখনও তিনজন খোঁজ রয়েছেন বলে জেলা প্রশাসন জানায়।

নিহত হিমালয় চন্দ্র রায় (২৮) ময়দানদিঘী ইউনিয়নের খালপাড়ার বীরেন চন্দ্র  রায়ের ছেলে।

তিনি বোদা পাথরাজ সরকারি কলেজ থেকে বিএসসি পাস করে দিনাজপুর সরকারি কলেজে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে স্নতকোত্তর ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

মাস দেড়েক আগে তিনি বিয়ে করেছেন। নৌকাডুবিতে বন্যা তার স্ত্রী বেঁচে ফিরেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় ছিলেন।

এদিকে, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত কাজের জন্য আরও তিন দিনের সময় বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওই কমিটির প্রধান। তিনি উদ্ধার অভিযান সরাসরি তদারকি করছেন; এ কারণে তদন্তের কাজে সময় লাগছে।

রোববার মহালয়া উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। দুপুরে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় একটি নৌকা উল্টে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। কিছু মানুষ সাঁতরে নদীর তীরে ফিরতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ থাকেন।

নৌকাডুবির পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নামেন তল্লাশিতে। পরে কয়েকদিন ধরে লাশ উদ্ধার হতে থাকে।

হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা করতোয়া নদী আউলিয়া ঘাট এলাকায় খুব খরস্রোতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা।

এর মধ্যে দুর্ঘটনায় পড়া নৌকায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী ওঠায় এবং মাঝ নদীতে নৌকাডুবির কারণে মৃত্যু এত বেশি হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

সর্বশেষ