বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের গুণে বাঙালি বিভেদ ভুলে এক দেশ এক নেতার ধারণায় পৌঁছেছিল: ড.কলিমউল্লাহ

বঙ্গবন্ধুর ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের গুণে বাঙালি বিভেদ ভুলে এক দেশ এক নেতার ধারণায় পৌঁছেছিল: ড.কলিমউল্লাহ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মোৎসব উপলক্ষ্যে জানিপপ কর্তৃক আয়োজিত জুম ওয়েবিনারে এক বিশেষ সেমিনারের ৪২১তম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
জানিপপ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড.মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন, ইউএন ডিজএ্যাবিলিটি রাইটস চ্যাম্পিয়ন ও অনারারি প্রফেসর আবদুস সাত্তার দুলাল এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. জেবউননেসা।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী, বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা আমাতুন নূর এবং মুখ্য আলোচক হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন গোপালগঞ্জস্হ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট অব লিবারেশন ওয়ার এন্ড বাংলাদেশ স্টাডিজ এর অধীনে পিএইচডি গবেষণারত প্রশান্ত কুমার সরকার ।

সভাপতির বক্তৃতায় ড.কলিমউল্লাহ বলেন,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বের গুণে বাঙালি বিভেদ ভুলে একসময় এক দেশ এক নেতার ধারণায় পৌঁছেছিল। ড. কলিমউল্লাহ বলেন, বোধ করি,তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় অবদান স্বভাবত কলহপ্রবণ, বিভেদ ও বিতণ্ডায় অভ্যস্ত এক জনগোষ্ঠীকে একটিমাত্র মহৎ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করতে পারা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার দুলাল বলেন,পঁচাত্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশে কল‍ুষিত রাজনীতি শুরু করেছিল।আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার সেই গোষ্ঠীর কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে কলুষিত রাজনীতি সমূলে উৎপাটন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করেছিলো জনতা। পরিতাপের বিষয় ক্ষমতাসীন এই দলটির অঙ্গ সংগঠন এবং কতিপয় নেতার বিতর্কিত কর্মকান্ড রাজনীতির পরিবেশকে কলুষিত করেছে তাই নয় নেতৃত্বদানের গুণগতমানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এই দায় যে শুধু ক্ষমতাসীন দলটির তা নয়, বরং সমগ্র রাজনীতিবিদদেরই এই দায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজনীতিবিদরা এগিয়ে আসবেন। রাজনীতি সচেতন জনতা এটাই প্রত্যাশা করছে।

অধ্যাপক ড.জেবউননেসা বলেন,দেশের রাজনীতির গতিমুখ পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য থেকে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। রাজনীতিতে পাকিস্তানি ধারাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার কুমতলবে রাজনীতিকে কলুষিত ও দুবৃত্তায়িত করে প্রকৃত রাজনীতির চালচিত্র বদলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ধারাকে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আমাতুন নূর বলেন,যারা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি করে, তাদের সেই রাজনীতিকে প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশ।
প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধু জাপানের অনুকরণে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি যুগান্তকারী পদক্ষেপও হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু হায়েনাদের হিংস্র থা্বায় তাঁকে প্রাণ দিতে হলো। বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে জাতি হিসেবে আমরা রিক্ত হয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছিলাম। দেরিতে হলেও আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন আমেরিকার মিলেনিয়াম টিভির কান্ট্রি ডিরেক্টর ও রয়েল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা’র সহযোগী অধ্যাপক,বিভাগীয় প্রধান ও ডেইলি প্রেসওয়াচ সম্পাদক দিপু সিদ্দিকী।
সেমিনারে অন্যন্যের মধ্যে সংযুক্ত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রকৌশলী শাফিউল বাশার, ইন্টারন্যাশনাল রবীন্দ্র রিসার্স ইন্সটিটিউটের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক ফারহানা আকতার, রাজশাহী থেকে ডা. মাহবুবুল হক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ডা বায়েজিদা ফারজানা।

সর্বশেষ