জবি ছাত্রীহলে শরৎ উৎসব

জবি প্রতিনিধিঃ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রীহল “বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল” এ প্রথমবারের মতো শরৎ উৎসব ১৪২৯ উদযাপিত হয়েছে। শরতের স্নিগ্ধতার পরশ পেতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।

ছাত্রীহলের ১০ তলায় এ আয়োজনটি করে হলের ছাত্রীরা। এতে ছাত্রীহলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শামীমা বেগম, হাউজ টিউটর প্রতিভা রানী কর্মকার সহ অন্যান্য সহকারী হাউজ টিউটর উপস্থিত ছিলেন।

এসময় আবাসিক হলের ছাত্রীরাও হালকা নীল রঙের শাড়ী পড়ে শরৎ উৎসব উদযাপন করে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ উৎসবে হলের ছাত্রীরা নেচে গেয়ে উদযাপন করেন। ছিলো ছবি তুলার হিরিক ও। এসময় বিভিন্ন ধরনের ফল ও মিষ্টির ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়াও ছাত্রী হলে বিভিন্ন ফ্লোরে আলাদা করে শরৎ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

হলের আবাসিক ছাত্রী ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নিপা রানী সাহা বলেন, সংস্কৃতিও ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হচ্ছে। ছয়টি ঋতুকে ঘিরে বাংলা যেমন বিভিন্ন সাজে সজ্জিত হয় তেমনি সংস্কৃতির সঙ্গেও ঋতুর একটি যোগসূত্র সংস্কৃতির মাঝে দেখা যায়। নগর জীবনে বাংলাকে ঘিরে এমন আয়োজন যেন গ্রামীণ আবহে নিয়ে যায়। প্রকৃতির রূপ-রস ধরে রাখার জন্য প্রতিবছর শরৎ উৎসবের আয়োজন করা উচিৎ।

হলের আবাসিক ছাত্রীরা বলেন, প্রথমবারের মতো শরৎ উৎসব আমাদের জন্য স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমরা এমন আয়োজনের বার বার করতে চাই। আশা করছি এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

হলের এক ছাত্রী বলেন, নাগরিক কোলাহলের ভিড়ে আবহমান বাংলায় এমন উৎসব আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে। এসব অনুষ্ঠান সব সময় আমাদেরকে একটি বার্তা দেয়। আমরা উৎসব পালন করব বটে, তবে এ পালনের মধ্য দিয়ে একটি বড় বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যা আমাদের সবাইকে পরিপূর্ণ মানুষ হতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে এসব অনুষ্ঠান বাংলার প্রকৃতি, পরিবেশ সবকিছুর সঞ্চার করে জনমনে। আমাদের সবার উচিত পরিবেশ-প্রকৃতি সংরক্ষণে নিজে সচেতন হওয়া ও অন্যকে সচেতন করা।

ছাত্রীরা বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে যারা আমাদের আঘাত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে দেশের তরুণ প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ আজ এ শরৎ উৎসবের মধ্য দিয়ে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেমন একাডেমিক দিন-পঞ্জিকা রয়েছে, তেমনি এমন একদিনের প্রত্যাশা রাখি যেদিন একাডেমিক দিনপঞ্জির মতো একটি সাংস্কৃতিক দিনপঞ্জিও থাকবে। সেটিও একাডেমিক দিনপঞ্জির মতো গুরুত্ব পাবে।

সর্বশেষ