পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দ্বিতীয় দিনে ২৬ লাশ উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ৩০

সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশগুলোর মধ্যে বেশির ভাগ লাশের সৎকার হয়েছে। স্বজনদের দাবি, এখনো ৩০ যাত্রী নিখোঁজ আছেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের রংপুর, রাজশাহী ও কুড়িগ্রামের তিনটি ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নিখোঁজদের স্বজনেরা সোমবার সকাল থেকে নদীর পাড়ে প্রিয় মানুষগুলোর অপেক্ষায় বসে ছিলেন। লাশ উদ্ধারের খবর মাড়েয়া আউলিয়ার ঘাট ও  ইউপি কার্যালয়ে খোলা তথ্যকেন্দ্রে আসার পর মরদেহের ছবিসহ বাইরের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে স্থানীয় লোকজন স্বজনদের লাশ শনাক্ত করতে ভিড় করছিলেন।

রোববার দিবাগত গভীর রাতে ব্রজেন্দ্র নাথের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। ভোর থেকে উদ্ধার করা লাশগুলো হলো কবিতা রানী (৫০), সুচিত্রা রানী (২২), দীপ বাবু (১০), ঝর্ণা বালা (৫০), বেজ্যেবালা (৫০), দীপশিখা রানী (১০), জগদীশ চন্দ্র (৬০), সুব্রত (২), যতি মৃন্ময় রায় (১৫), গেন্দা রানী (৫০), কনিকা রানী (৪০), সুমিত্রা রানী (৪৫), আদরী রানী (৫০) পুষ্পা রানী (৫০), প্রতিমা রানী (৫০), সূর্যনাথ বর্মণ (১২), হরি কিশোর (৪৫), নিখিল চন্দ্র বর্মণ (৬০), সুশীল চন্দ্র (৬৫), যূথি রানী (১), রাজমোহন অধিকারী (৬৫), রূপালী রানী রায় (৩৮), প্রদীপ রায় (৩০), পারুল রানী (৩২) ও প্রতিমা রানী রায় (৩৯)। এসব মরদেহ মাড়েয়া আউলিয়ার ঘাট, দেবীগঞ্জ করতোয়া সেতু ও দিনাজপুরের খানসামা সেতু ও বীরগঞ্জ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সোলেমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসবের মহালয়া উপলক্ষে শতাধিক মানুষ শ্যালো ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে বদেশ্বরী মন্দিরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঘাট থেকে নৌকাটি কিছু দূর যাওয়ার পর দুলতে শুরু করে। এ সময় মাঝি নৌকাটি ঘাটে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে নৌকা ডুবে যায়। নৌকার যাত্রীদের অনেকেই সাঁতরে তীরে ওঠেন। তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে যোগ দেন এবং পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

করতোয়া নদীর পাড়ে মাকে খুঁজতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপক চন্দ্র বর্মণ

করতোয়া নদীর পাড়ে মাকে খুঁজতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপক চন্দ্র বর্মণ

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, মৃতদের সৎকার ও দাফনপ্রক্রিয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রতিটি পরিবারকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মৃত ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সর্বশেষ