আপনারা চান আবার সেই সাহরি ইফতারি খাক?

বর্তমান নির্বাচন কমিশন যে ব্যালটের পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনেও ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরোধিতাকারীদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে কমিশনার মো. আলমগীর প্রসঙ্গটি তোলেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা কি চান আবারও ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে সেই সাহরি, ইফতারি খাক?’

আপনারা চান আবার সেই সাহরি ইফতারি খাক?

নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ইভিএমে কারচুপি করা যায় না। তিনি বলেন, ‘আপনারাই তো বলেন যে, রাতে ভোট হয়, সকালে ভোট হয়, দুপুরে ভোট হয়, সাহরি খায়, ইফতারি খায়। আপনারা কি চান আবারও ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে সেই সাহরি, ইফতারি খাক?’ গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতেই সিল দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

 

মো. আলমগীর বলেন, ‘ভোটার তালিকার সঙ্গে ইভিএমে ফটোও দেখা যায়। কাজেই কারও আঙুলের ছাপ না মিললেও একজনের ভোট অন্যজন দেওয়ার সুযোগ নেই। কারও আঙুলের ছাপ না মিললে সেই ফটো মিলিয়ে দেখা হয়। সব দিক থেকেই আমরা নিশ্চিত হয়েছি ইভিএমে কারচুপি করা যায় না।’

ইভিএমে পেপার ট্রেইল না থাকার যে বিষয়টি বিরোধীরা তুলে ধরছেন, তার জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা আমাদের বলেছেন, এই মুহূর্তে এটা সংযোজন করা সম্ভব নয়।’

ইভিএমের বিরোধিতাকারী কয়েকটি দলের বক্তব্য পাল্টে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেন, ‘দলগুলোর সঙ্গে যে সভা করেছি, তা আপনারা সরাসরি দেখেছেন। আমাদের কর্মকর্তারা এগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, ভিডিও ক্লিপ আছে। সেগুলো দেখে আমাদের লিখিতভাবে দিয়েছেন। তিনবার মিলিয়ে দেখা হয়েছে। আমরা দলগুলোর লিখিত বক্তব্য এবং ভিডিও ক্লিপের ভিত্তিতে ইভিএম নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর অনেকেই বলেছেন, যদি কারচুপি করা না যায়, তবেই ইভিএম চায় তারা। কাজেই সেই হিসেবেই আমরা দেখেছি মোট ১৭টি দল ইভিএম চায়। তবে অভিযোগ যেহেতু এসেছে, সেহেতু এটি খতিয়ে দেখার কথাও বলেন এই নির্বাচন কমিশনার। বলেন, ‘যেহেতু পত্রিকায় এসেছে, আমরা দেখব আমাদের কোনো ভুলত্রুটি আছে কি না। প্রয়োজনে দলগুলোর বক্তব্য আমরা ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করব। সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য নতুন ইভিএম কেনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব আজ সোমবার চূড়ান্ত হবে বলেও জানান তিনি। এরপর তা পাঠানো হবে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায়।

সর্বশেষ