Monday, October 3, 2022
Homeখেলাধূলাখাবারের জন্য ভিক্ষা করা ছেলেটা এখন বিশ্বসেরা!

খাবারের জন্য ভিক্ষা করা ছেলেটা এখন বিশ্বসেরা!

আকাশ দাশ/ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার। এদের গল্পটা কিন্তু অন্য সকল দেশের ফুটবলারদের চেয়ে আলাদা। বাকি দেশগুলোর ফুটবলারদের মতো এদের বেড়ে উঠা হয়নি তেমন কোন সুন্দর পরিবেশে। সবার যেমন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানোর সুযোগ হয়না ঠিক তাদের অধিকাংশ ফুটবলারদের বেলায়ও হয়নি এমনটা। তাদের বেড়ে উঠা হয়েছিলো কোন না কোন এক কঠিন পরিবেশে, নোওয়া অাবর্জনা মধ্যে ব্যস্ত অলিগলিতে হত দরিদ্র শহরের কোন এক গরীব পরিবারে, বড় হয়েছে মাদকের গন্ধের মধ্যে অসৎ পরিবেশে। খাবারের জন্য ভিক্ষা করতে করতে আজ তারা নাম লিখিয়েছে বিশ্বসেরা তারকাদের তালিকায়।

সেই তালিকায় ব্রাজিলের তরুণ তারকা ফুটবলার রাফিনহার গল্পটাও ঠিক এইরকম। এসেছেন ঠিক এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে। যে গল্পটায় রাফিহার জন্য ছিলো প্রতিনিয়ত সংগ্রামের। যেন কোন এক ছায়াছবির অংশবিশেষ। সদ্য প্রকাশিত হওয়া রাফিনহার এমন একটি সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে এমনটা। জানিয়েছেন নিজের জীবনের ফেলে আসা সফলতার গল্পটা কিভাবে কেটেছে তার অতীত, কিভাবে আসলো জাতীয় দলে….

ব্রাজিলিয়ান এই তারকা নিজের দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার ছেলেবেলা ছিল খুবই কঠিন। কিশোর বয়সে আমার আশেপাশে বেশ কিছু সুযোগ এসেছিল সহজে টাকা উপার্জনের। তারা আমাকে সহজে অর্থ উপার্জনের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেখানেই মানুষ হারিয়ে যায়। আমি কখনও এই পথে আসিনি। কিন্তু আমি প্রত্যক্ষদর্শী, আমি যাওয়া লোকদের পাশাপাশি হেটেছি। আমি জানি যেসব মানুষের বড় লক্ষ্য নেই, পরিবারের সমর্থন নেই, তারা হারিয়ে যায়। ওই সময়ে আমি আমার অনেক বন্ধুকে হারিয়েছি ড্রাগ মাফিয়াদের কারণে। আমার অনেক বন্ধু ছিল যারা আমার চেয়েও ভালো ফুটবল খেলত, যারা এখন বড় ক্লাবে খেলতে পারত।
আমি এমনই মাদকের পরিবেশে বড় হয়েছি, কিন্তু আমি আমার ফুটবলার হওয়ার লক্ষ্যে অবিচল ছিলাম।

তিনি আরো বলেন, “আমার শুরুর জীবনটা ছিল খুব কঠিন। আমি আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছি। যখন আমার বয়স ১৬ বছর, আমি যেখানে অনুশীলন করতে যেতাম সেটা ছিল আমার বাড়ি থেকে অনেক দূরে। আমার কাছে বাসে যাওয়ার ভাড়া ছিল না। আমার যেতে ৮-৯ ঘন্টা লাগতো। এই ৮-৯ ঘন্টা আমার কাছে খাওয়ার কিছু থাকত না। আমি না খেয়েই থাকতাম। অনুশীলনের পর আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতাম, আমাকে কিছু খাবার কিনে দেওয়ার জন্য। কেউ সাহায্য করত, কেউ আবার অপমান করত”।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular