Monday, October 3, 2022
Homeবিভাগীয় খবরভৈরবে দু'পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৫, নিরীহ মানুষের দোকান ও ঘরবাড়ি ভাংচুর

ভৈরবে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ২৫, নিরীহ মানুষের দোকান ও ঘরবাড়ি ভাংচুর

এম.আর ওয়াসিম ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে। এসময় নিরীহ মানুষের দোকান পাঠ ও ঘরবাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে গোলাম হোসেনের দুতলা ভবনের জানালার গ্লাস ও দোকানের সার্টার কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। এছাড়াও আপন মিয়ার দোকান, আনোয়ার হোসেনের দোকানসহ বেশকিছু দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।
বুধবার বিকেলে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে দু’পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেন।

এসময় উত্তেজিত উশৃংখল লোকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে এসআই বাপ্পিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।এঘটনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ১০টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ আহতের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে রাতেই ২৩জনের নাম উল্লেখ্য করে ১০০ থেকে১১০জন অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেন এবং আরমান নামে একজনকে গ্রেফতার করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিল্ডিং মালিক গোলাম হোসেন জানান, তিনি কোন পক্ষের নয়। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আমার দুতলা বাড়ির জানালার গ্লাস, দোকানের সার্টারসহ অন্তত তিন লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। আমি ক্ষতিপূরণসহ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
ক্ষতিগ্রস্থ আনোয়ার স্টোরের মালিক আনোয়ার হোসেন জানান, গতকালের ঝগড়ার ঘটনায় আমার দোকানের সার্টার ও গ্লাস ভাংচুর করে ৫০হাজার টাকার ক্ষতি করে। আমি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।
হাজী রমজান আলী মিয়ার বাড়ির রুহানের বড় ভাই রুবেল জানান, মিনা টাওয়ারের কাছে বালুর মাঠে এলাকার ছেলেরা ক্রিকেট খেলতো। কিন্তু গতকাল খালেক মিয়ার বাড়ি ছেলেরা খেলার জায়গাটি কুপিয়ে নষ্ট করে দেয়ার দেয়। এনিয়ে আরমান নামে একজন প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করেন। আরমান তখন রুহানকে ফোন করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রুহান জিজ্ঞেস করলে তাকেও মারধর করা হয়। এঘটনা বাড়ির অন্যান্য যুবকরা জেনে ঘটনাস্থলে গেলে ওই পক্ষে লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আসলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। একজনের আশংকা খুবই খারাপ। এঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজন বেশকিছু দোকানপাট কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

আব্দুল খালেক মিয়ার বাড়ি (আলিম সরকারের বাড়ি) রুবেল মিয়া বলেন, বুধবার বিকেলে মিনা টাওয়ারের কাছে বালুর মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে ঘটনার সূ্ত্রপাত হয়। খেলার সময় আমাদের বাড়ির কয়েকজন খেলতে চায়লে তর্কবিতর্ক হয়। এনিয়ে আমাদের বাড়ির বিল্লাল মিয়ার ছেলে ফয়সাল (২১), আমজাদ মিয়ার ছেলে ইমন (২০), ইকবাল মিয়ার ছেলে রাজুকে (১৯) মারধর করে। এঘটনা সমাধান করতে আমার কয়েকজন বালুর মাঠে গেলে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আমাদের উপর আক্রমণ করে তারা। পরে তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে আসলে আমাদের লোকজনও এগিয়ে আসলে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এঘটনায় আমাদের পক্ষের ১২ জনের মতো আহত হন। শুনেছি পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। আমি এঘটনার বিচার দাবি করছি।

দোকান পাট ভাংচুরের ঘটনায় তারা জড়িত নয় বলে জানান।
এঘটনায় ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো: শাহ আলম বলেন, ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার সময় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। এঘটনায় এসআই আজহারুল বাদী হয়ে ২৩ জনের নাম উল্লেখ্যসহ ১১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় আরমান নামে একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular