Friday, September 30, 2022
Homeজাতীয়মোটা চাল এখন ৬০ টাকা, কমেছে ডিমের দাম

মোটা চাল এখন ৬০ টাকা, কমেছে ডিমের দাম

 

চালের দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দু-তিন টাকা বেড়েছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মোটা চাল বি-২৮-এর দাম ছিল ৫৭-৫৮ টাকা, এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৬০ টাকায়। চিকন চাল মিনিকেট ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় এবং নাজিরশাইল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

 

গত ১৮ আগস্ট প্রতি ডজন ডিম ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি করা হয়, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছের দামও কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। সয়াবিন তেলের দাম লিটারে সাত টাকা বাড়ার কারণে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। আর গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি করা হচ্ছে সব ধরনের সবজি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, জোয়ারসাহারা বাজার, উত্তর বাড্ডার বাজার ঘুরে এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৭০ টাকা ও ২৮০ টাকায়। দেশি মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ৫০০ থেকে ৫১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি আকারের প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয় ২০০ টাকায়, এখন ২০ টাকা কমেছে। ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মাঝারি আকারের পাঙ্গাশ মাছের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়।

গত মঙ্গলবার নতুন করে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় বাজারে বাড়ছে তেলের সরবরাহও। প্রতিটি দোকানেই এখন নতুন দামের সয়াবিন তেলের বোতল দেখা গেছে। নতুন করে চাহিদা নিতে দোকানে দোকানে ঘুরতে দেখা গেছে কম্পানির প্রতিনিধিদেরও।

তবে চালের দাম বেশ কিছুদিন ধরেই বাড়ছে। রাজধানীর উত্তর বাড্ডার মেসার্স ভ্যারাইটিজ স্টোরের ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দাম বেড়ে এখন প্রতি কেজি মোটা চাল বি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, চিকন চাল মিনিকেট ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় এবং নাজিরশাইল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। ’

বাজারে তেল সরবরাহের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকেই কম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, বিশেষ করে পাঁচ ও দুই লিটারের বোতলের তেল দেওয়া কমিয়ে দিয়েছিল। এখন দাম বাড়ার পরের দিন থেকেই আবার বাজারে তেল সরবরাহ করতে শুরু করেছে। ’

জোয়ারসাহারা বাজারের ডিম ব্যবসায়ী হারেছ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত সপ্তাহে ডিমের ডজন ছিল ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা। এখন প্রতি ডজন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ’

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের সঙ্গে কমেছে মুরগির দামও। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স মা আয়েশা ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ সপ্তাহের মধ্যে  মুরগির দাম কেজিতে অনেক কমে গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার প্রতি কেজি বিক্রি করেছি ১৮০ টাকায়, এখন বিক্রি করছি ১৭০ টাকায়। সোনালি বিক্রি করেছি ২৯০ টাকায়, সেটি এখন বিক্রি করছি ২৮০ টাকায় এবং দেশি মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমিয়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। ’

ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আলু, আটাসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য আগের দামেই বিক্রি করা হচ্ছে। জোয়ারসাহারা বাজারের মেসার্স ভাই ভাই স্টোরের ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকন মসুরের ডাল প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১১০ টাকা, পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ টাকা, দেশি রসুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৩০ টাকা, বড় আলু ৩০ টাকা, খোলা আটা ৫০ টাকা এবং দুই কেজি প্যাকেট আটা ১১৫ টাকায় বিক্রি করছি। ’

বাজারে ডিম ও মুরগির দাম কমায় মাছের দামও কিছু কমেছে। জোয়ারসাহারা মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে মাঝারি আকারের প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হয় ২০০ টাকায়, সেটি এখন ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মাঝারি আকারের পাঙ্গাশ মাছের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। তবে রুই মাছের দাম কমেনি, প্রতি কেজি নলা রুই ২০০ টাকায়, এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় এবং বড় রুই প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ছোট মাছের মধ্যে মলা প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়, ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামের মধ্যে তেমন পার্থক্য দেখা যায়নি। গতকাল রাজধানীর বাজারগুলোতে গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৫০ টাকা, লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চালকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular