Sunday, September 25, 2022
Homeজাতীয়৪৪০৭ পশুরহাট কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি ২১ লাখ পশু

৪৪০৭ পশুরহাট কোরবানির জন্য প্রস্তুত ১ কোটি ২১ লাখ পশু

কোরাবানি ঈদের বাকি আর মাত্র ৭ দিন। এরইমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে উঠেছে পশুরহাট। রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। দুই সিটি করপোরেশনের ১৯টি হাটে ৫ই জুলাই থেকে শুরু হবে বেচাবিক্রি। হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও পশু বেচাকেনার ব্যবস্থা রাখছে সরকার। কোরবানিকে ঘিরে দেশে প্রস্তুত করা হয়েছে এক কোটি ২১ লাখ পশু। এ বছর সারা দেশে ৪৪০৭টি স্থানে বসবে পশুরহাট। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- দেশের উৎপাদিত পশুতে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণ করা হবে। গত বছরও দেশীয় গরুতে চাহিদা মেঠানো সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালে সারা দেশে কোরবানি হয়েছিল ৯১ লাখ পশু।

চলতি বছরে এক কোটি কম-বেশি হতে পারে। এজন্য ভারত, মিয়ানমার কিংবা অন্যান্য দেশ থেকে পশু আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কঠোর নদরদারি রাখা হয়েছে। কোনো এলাকা দিয়ে যেন চোরাই গুরু দেশের মধ্যে ঢুকতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে চিঠি দিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। খামারিদের অভিযোগ, কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত পশু থাকলেও প্রতিনিয়ত পার্শ্ববর্তী দেশে থেকে গবাদিপশু আসছে। সীমান্ত নিয়ে অবৈধ উপায়ে চোরাকাবারিরা দেশের মধ্যে এসব পশু ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। এতে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। 

অনেকেই বলছেন, গবাদিপশুর খাবারের দাম চওড়া। বন্যার কারণে দেশে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গবাদিপশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব নিয়ে কোরবানি পশুর নাম গত বছরের তুলনায় অনেকাংশ বাড়বে।  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর  কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পশুরহাটের সংখ্যা। বেসরকারি উদ্যোক্তার পাশাপাশি সরকারিভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এরমধ্যে প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়নি। খামারি-ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়ার সংকট নেই। ঈদুল আজহা ২০২২ উপলক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশের ৮টি বিভাগে খামার রয়েছে ৬ লাখ ৮১ হাজার ৫৩২টি। এসব খামারে কোরবানিযোগ্য গরু আছে ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৭৯টি, মহিষ আছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৫০৪টি, ছাগল আছে ৬৫ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৫টি,  ভেড়া আছে ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬৮২টি। বিভাগওয়ারী গবাদিপশুর চাহিদা ও প্রাপ্যতা অনুসারে ঢাকায় চাহিদা ২৪ লাখ ৭ হাজার ১৯৬টি গবাদিপশুর। ঢাকায় প্রাপ্যতা সংখ্যা ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫০টি, ঘাটতি রয়েছে ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪৬টি পশু। চট্টগ্রামে চাহিদার সংখ্যা ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৮২টি, প্রাপ্যতা রয়েছে ২০ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪টি, ঘাটতি রয়েছে ২২ হাজার ৭৮টি। রাজশাহী বিভাগে চাহিদা ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৬৩১টি। এই বিভাগে গবাদিপশু রয়েছে ৪৪ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৪টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৩টি। খুলনা বিভাগে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকছে ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৯০০টি। বরিশাল বিভাগে পশুর চাহিদা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৭টি, প্রাপ্যতার সংখ্যা ৬ লাখ ৭২ হাজার ৪৯৯টি, উদ্বৃত্ত থাকছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৭২টি। সিলেটে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৮০৯টি গবাদিপশুর ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া রংপুরে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ১০১টি, ময়মনসিংহে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭১টি কোরবানিযোগ্য গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে ৬টি কোরবানির পশুরহাটে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবস্থা করেছে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

হাটগুলো হলো- গাবতলী, বসিলা, আফতাবনগর, ভাটারা, কাওলা ও উত্তরা ১৭নং সেক্টরের পশুরহাট। সংশ্লিষ্টরা জানান, পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর হাটে নগদ অর্থের লেনদেন ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। হাটকে কেন্দ্র করে বেড়ে যায় জাল নোট, ছিনতাই ও বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড। আসন্ন ঈদুল আজহায় এসব সমস্যা এড়াতে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ স্মার্ট হাট’ পাইলট প্রকল্পটি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রকল্পটি পরিচালনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) যৌথভাবে কাজ করছে। সার্বিক সহায়তা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মারস এসোসিয়েশন। এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে হাট সংশ্লিষ্ট ৩টি এলাকায় প্রান্তিক খামারিদের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (খামার) জিনাত সুলতানা বলেন, দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু রয়েছে। কোরবানির জন্য দেশে কোনো পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না। আমদানি বন্ধ রয়েছে। তবে চোরাইপথে কিছু গরু ঢুকলেও তা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী চোরাই গরু ঠেকাতে কাজ করছেন।  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে এক কোটি ২১ লাখের বেশি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

আশা করছি, কোরবানি গরুর যে চাহিদা এর মধ্যেই পুরণ করা সম্ভব। আমাদের দেশের খামারিরা অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন বেশি সচেতন। আমাদের কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। গত বছরও দেশে কোনো গরু আমদানি করা হয়নি। এ বছরও আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে সরকার অটল।  বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স এসোসিয়েশনের শাহ এমরান বলেন, আমাদের সংগঠনে ১৮ হাজার সদস্য রয়েছে। তাদের ফার্মে প্রায় তিন লাখ পশু মজুত রয়েছে। এছাড়া গ্রামে গঞ্জে গৃহস্থী গরু রয়েছে। সব মিলেয়ে এক কোটির বেশি হবে। এসব গবাদিপশু নিয়ে কোরবানি চাহিদা পূরণ হবে।  এদিকে গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে ৪ হাজার ৪০৭টি গবাদিপশুর হাট বসবে। আর এসব হাটে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা যাবে না। তবে হাটের সংখ্যা দু-একটা বেশি-কম হতে পারে। মহাসড়ক ও সড়কে কোনো পশুর হাট বসানো যাবে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular