Thursday, September 29, 2022
Homeজাতীয়"পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা'র ত্রিকালদর্শীর ফসল"

“পদ্মা সেতু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা’র ত্রিকালদর্শীর ফসল”

আতিকুর রহমান: পদ্মা বহুমুখী সেতু, বাংলাদেশের স্বনির্ভরতার প্রতীক। এই সেতু নির্মাণের সময়, অর্থ, ব্যয়, গুজব, ষড়যন্ত্র ইত্যাদি নিয়ে নানা কথা থাকলেও সেতু বাস্তবে রুপ নেওয়ায় সব ম্লান হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কোনো প্রকল্পে নিজস্ব সম্পদ আহরণ থেকে অর্থায়ন ও কর্মসম্পাদন যে এককভাবে সম্পন্ন করা যায় তা এতোদিন ছিলো কল্পনারও অতীত। এ সেতু আমাদের সেতু। এ সেতু বাংলাদেশের সেতু। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এ সেতুর মালিক। এ সেতুর বাস্তবায়নে অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য বিশ্বব্যাংকের মতো প্রকাণ্ড প্রতিষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ করে, তাদের সব দাবি-দাওয়া অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশের মান সমুন্নত ও উচ্চাসীন করার অনন্য কৃতিত্ব একমাত্র বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার।

বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতু প্রকল্পে ঋণ চুক্তি বাতিল করে তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ়চিত্তে ২০১৩ সালের মে মাসে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। দেশবাসীও তার সঙ্গে একাত্ম হয়ে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সার্মথ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসেছে। অবশেষে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ এ সেতুর সুফল পেতে শুরু করবে। এ সেতু দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বিশাল এক বিস্ময়ের নাম। আশা করা যাচ্ছে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হলে সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৬৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে গোপালগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চল প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত হবে এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ স্থাপিত হবে, তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সোনালী ভবিষ্যৎ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করে সার্বিক উন্নয়নে প্রভূত ভূমিকা রাখার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে।

পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেতুটি নির্মাণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। দেশের জিডিপি বছরে ১.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় জিডিপি ২.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক স্থাপনের ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হবে এবং মাওয়া ও জাজিরায় গড়ে উঠবে নতুন নতুন রিসোর্ট ও হোটেল, মোটেল, শপিংমল, বিভিন্ন ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। মংলা ও পায়রা বন্দর কন্টিনিউয়াসলি চালু থাকবে যা ব্যবহার করতে পারবে প্রতিবেশী দেশগুলোও। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। ঢাকা থেকে মাওয়া-ভাঙা-যশোর-খুলনা রেল সংযোগ স্থাপিত হবে। ঢাকা থেকে খুলনা, মংলা, বরিশাল, কুয়াকাটা অর্থনৈতিক করিডোর খুলে যাবে। দেশের দক্ষিণাঞ্চল ট্রান্স-এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।

ভারতা, ভুটান ও নেপালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে এবং যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সুবিধা হবে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সাহসী সিদ্ধান্ত উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীরা বুঝতে পেরেছে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে এসে ভুল করেছে। এখন উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে। মেট্রোরেল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, রুপপুর পারমানবিক পাওয়ার প্লান্টের মতো মেগা প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে জাপানসহ সহযোগী দেশগুলো। পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ সরকার, বিশেষজ্ঞ এবং প্রকৌশলীদের মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়নে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। বর্তমানে দেশে ১৫-১৮ টি মেগাপ্রকল্প চলছে যার পথিকৃৎ এই পদ্মা সেতু প্রকল্প। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুতনয়া শেখ হাসিনার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত তাকে একজন আত্মবিশ্বাসী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, ধারাবাহিক জিডিপির প্রবৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সূচকে প্রিয় স্বদেশের অবস্থানের উন্নতি আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই সেতুর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তার পরিবারের সদস্য, অভিযুক্ত মন্ত্রী, উপদেষ্টারা অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষা স্বীকার করেছেন, তাদের ত্যাগের ফসলই এই পদ্মা সেতু। আমাদের আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, উন্নয়ন ও অহংকারের প্রতীক পদ্মা সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু’ চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিটও হয়েছিলো, সংসদে, সংসদের বাহিরে বার বার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছিলো তবে প্রতিবারই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব দিয়েছেন তিনি এটা চান না। এটা শেখ হাসিনার উদারতা। বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশও উল্লখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে দেশ এগিয়ে যাক, এটাই জাতির প্রত্যাশা। লেখক: প্রভাষক ,ব্যবস্থাপনা বিভাগ ,বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ( বশেফমুবিপ্রবি),জামালপুর-২০১২

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular