Monday, October 3, 2022
Homeজাতীয়‘চলো চলো আরাকান চলো’ শ্লোগানে প্রকম্পিত রোহিঙ্গা শিবির

‘চলো চলো আরাকান চলো’ শ্লোগানে প্রকম্পিত রোহিঙ্গা শিবির

চলো চলো আরাকান চলো’ শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে উঠে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী ৩৪টি রোহিঙ্গা শিবির। তারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে ফিরতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। আজ রবিবার সকালে বর্ষণমুখর অবস্থায় প্রতিটি শিবিরেই সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত একঘণ্টার কর্মসূচি পালন করেন তারা। আগামীকাল সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসের একদিন আগে আজ সকালে লাখো রোহিঙ্গা তাদের বস্তির বাইরে এসে ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

রোহিঙ্গাদের ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া লাখো নারী-পুরুষের মুখে একটি আওয়াজ ছিল- এবারের বিশ্ব শরণার্থী দিবসেই আমাদের শরণার্থী জীবনের অবসান হওয়া চাই। রোহিঙ্গারা এ আয়োজনে নানা প্ল্যাকার্ড বহন করেছেন বিশ্ব বিবেকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাতে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো অনেক দাবি তুলেছেন।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের ৩৪টি শিবিরেই একযোগে ‘গো হোম’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সাধারণ রোহিঙ্গারাই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে দলে দলে। সকাল থেকেই মুশলধারে বৃষ্টিও নামে। প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করেই রোহিঙ্গারা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ফিরতে ব্যাকুলতার কথা জানাতে তারা শিবিরের বাইরে এসে সমবেত হন।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গাদের বাধা দিয়ে আসছে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বাহিনী। এ কারণে শিবিরগুলো দেশে ফিরতে ইচ্ছুক এবং ফিরতে বাধাদানকারী- এ দুই বিবাদমান গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা এবং রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদে এখানে রেখে আঁখের গোছানোর নেপথ্যে কাজ করছে আন্তর্জাতিক কিছু সংস্থার কর্মী। সেইসঙ্গে দেশি-বিদেশি এনজিওকর্মীদের বিরুদ্ধেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন খোদ সাধারণ রোহিঙ্গারাই। ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের অনেকেই বলেছেন, দেশি-বিদেশি ইন্ধন না থাকলে অনেক আগেই আশ্রিত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরে যাওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতো।

দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ জাফর এ বিষয়ে জানান, স্বদেশে ফিরতে বাধাদানকারী রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের প্রচণ্ড চাপ উপেক্ষা করেই আমরা আজকের ‘গো হোম’  কর্মসূচির আয়োজন করেছি। আমরা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রকে আর ভয় পাই না। আমরা ফিরতে চাই শত বছরের আমাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহি বাড়িভিটায়।

এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দৌজা নয়ন জানান, শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার কথা তারা বিশ্ববিবেকের কাছে তুলে ধরতেই পারেন। রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মাধ্যমে তাদের দাবির কথা জানিয়েছেন।

সূত্র: কালেরকন্ঠ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular