ভৈরবে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই

এম.আর ওয়াসিম  ভৈরব প্রতিনিধি :

প্রতি বছরই রমজানের ঈদকে ঘিরে বাজারে লাচ্ছা সেমাইয়ের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে অধিক লাভের আশায় রমজান মাস শুরু হওয়ার আগে থেকেই লাচ্চা সেমাই তৈরি করতে ভৈরব শহরের আনাচে কানাচে গড়ে উঠে অসংখ্য মৌসুমী সেমাই কারখানা। কয়েকটি সেমাই কারখানায় সজেমিনে গিয়ে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন নামীদামি ব্যান্ডের সেমাই। ভৈরবে তৈরিকৃত সেমাই কারখানার বেশিরভাগেরই কোন প্রকার লাইসেন্স নেই। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেরা অধিক মুনাফা পেলেও বিপুল পরিমান সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ভৈরব শহরের রানীর বাজার, কাঠপট্টি, বাগান বাড়ী, ঘোড়াকান্দা, কমলপুর, জগন্নাথপুর, শুম্ভুপুর ও চণ্ডিবেরসহ বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছে অর্ধশতাধিক সেমাই কারখানা। ওইসব সেমাই কারখানায় নোংরা পরিবেশে নিম্নমান ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ময়দা, ডালডা, নিম্ন মানের পাম তেলের সঙ্গে পোড়া পাম তেল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে মুখরোচক সেমাই। তাছাড়া কারখানার শ্রমিকদের বেশিরভাগেই নেই স্বাস্থ্য সনদ। শ্রমিকরা খালি হাত ও খালি শরীরে সেমাই তৈরি করার সময় ঘাম ঝরে মিশে একাকার হচ্ছে। স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে পা দিয়ে বানানো হচ্ছে খামির। পরে ওই সেমাই তেলে ভাজার পর চকচকে প্যাকেটে মোড়কজাত করা হয়। নিম্নমানের সেমাই গুলো মোড়তজাতের পর উন্নতমানের কার্টুনে করে ভৈরবের পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে সরবরাহ করে থাকেন। বেশিরভাগ কারখানা গুলোতেই বছরের অন্যান্য সময়ে সেমাই উৎপাদন বন্ধ রাখা হয় এবং রমজান এলেই উৎপাদন শুরু করেন তারা। ওই সকল কারখানা গুলোর বেশিরভাগই বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বিহীন। অসাধু কিছু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা লাভের আশায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে কারখানার বাহির থেকে তালাবদ্ধ করে ভিতরে তৈরি করছেন লাচ্ছা সেমাই। আবার কিছু কিছু ব্যবসায়ী সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত সেমাই উৎপাদন করে এবং দিনের বেলায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেমাই কারখানার একজন মালিক জানান, সারাবছর কারখানার ভাড়া দিয়েও শুধুমাত্র এক সিজনে মাঝারি আকারের একটি কারখানা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা আয় করে থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকার এসে নগদে সেমাই ক্রয় করেন। ভ্যাট ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ায় লাভের পরিমান বেশি বলে জানান তিনি।

ভৈরবের বিভিন্নস্থনে নামে বেনামে তৈরি হওয়া অস্বাস্থ্যকর সেমাই কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদেরকে আইনের আওতায় আনবে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

সর্বশেষ