শরীয়তপুরে সাংবাদিক স্বপন সরকার ও বারেক ভূইয়ার নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

শরীয়তপুরে সাংবাদিক স্বপন সরকার ও বারেক ভূইয়ার নামে চাঁদাবাজীর অভিযোগ

জাজিরা (শরীয়তপুর) প্রতিনিধি:

শরীয়তপুরের জাজিরায় অধ্যক্ষের কাছে ২ সাংবাদিকের চাদা দাবী। জনরোষে সাংবাদিক নাস্তানাবুদ। অবশেষে অধ্যক্ষের কাছে চাদা দাবী করে রীতিমতো জনরোষের শিকার হয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছেন দুই তথা কথিত সাংবাদিক।

ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয়নগর এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ডাঃ মোসলেম উদ্দিন খান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।

কথিত সাংবাদিকদ্বয়ের জবানিতে দেয়া ভাষ্যমতে তারা হলেন, দৈনিক ভোরের দর্পণ পত্রিকার শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি ও শরীয়তপুর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রুদ্রকন্ঠ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এসএম শফিকুল ইসলাম (স্বপন সরকার) এবং  দৈনিক ভোরের সময় ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকার শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি এইচএম আবদুল বারেক ভুঁইয়া।

কলেজসূত্র ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার বেলা বারোটার সময়ে কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা চলাকালে কলেজের মূল একাডেমিক ভবনের গেটে দায়িত্বরত কর্মচারীর বাধা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষের কোনো রকম অনুমতি না নিয়েই কথিত সাংবাদিকদ্বয় জোরপূর্বক বে-আইনীভাবে কলেজে প্রবেশ করে। তাদের তান্ডব ও চীৎকারে কলেজের পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীরা বিব্রত ও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেন তাদের শালীন ও সাংবাদিকসুলভ আচরণ করার অনুরোধ জানালে তারা সর্বমহলে সুপরিচিত, শিক্ষাবিদ-সুসাহিত্যিক এই অধ্যক্ষের সাথেও শালীনতা বিবর্জিত আচরণ করতে থাকে। পর্যায়ক্রমে তারা যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের প্রবীণ সহকারী অধ্যাপক মিঃ, পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের প্রভাষক মোঃ শহীদুল ইসলাম এবং কলেজের পরিচালনা পর্ষদের  সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের সাথেও বেয়াদবী ও দুর্ব্যবহার করতে থাকে। একই সাথে তারা মিডিয়ায় রিপোর্ট প্রকাশ করে কলেজের বেতন বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ মহোদয় ও জিবি সদস্য মোঃ গোলাম মোস্তফা খানের কাছে দশ হাজার টাকা চাদা না দিলে কলেজের এমপিও বন্ধ হয়ে যাবে মর্মে জানালেই অধ্যক্ষ মহোদয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশসহ চাদা দাবীর মতো জঘন্য অপরাধের ঘোরতর বিরোধিতা করলে তারা আরো বেসামাল হয়ে ওঠে। সাথে সাথে উত্তেজিত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তাদের উপর চড়াও হয় এবং সমুচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য উদ্যত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় জনতা কথিত সাংবাদিকদ্বয়কে জনরোষ থেকে উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য, বিতর্কিত এই সাংবাদিকদ্বয় গত ২০ মার্চ আরো এক দফা চাদা দাবী করেছিলো।

কলেজ কর্তৃপক্ষ এবিষয়ে ত্বরিৎ প্রতিকার চেয়ে যথারীতি জাজিরা মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

কলেজ পরিচালনা পর্ষদের  সভাপতি  আলহাজ্ব আবদুল আলীম বেপারীকে এবং জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান জনাব কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম মিন্টুকেও বিষয়টি ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেন, স্বপন সরকার ও বারেক ভূইয়ার জ্বালায় আমরা অতিষ্ঠ। তারা চাঁদাবাজীর জন্য এ পর্যন্ত শরীয়তপুরের অনেক জায়গায় গণধোলাই ও জুতা পেটা খেয়েছে। কোথাও মার খাওয়ার আঁচ পেলে স্বপন সরকার নিজেকে শরীয়তপুর জেলা মৎসজীবীলীগের আহবায়ক ও বারেক ভূইয়া সদস্য পরিচয় দেয়। এদের থেকে আমরা বাঁচতে চাই।

সর্বশেষ