ভৈরবে সড়ক দূর্ঘটনায় দফাদার ও স্কুল ছাত্র নিহত

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সড়ক দূর্ঘটনায় গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার ও এক  স্কুল ছাত্রসহ দুইজন নিহত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে মর্মান্তিক এই সড়দূর্ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন, মানিকদী চৌমুরী বাজার এলাকার এরফান মিয়া। তিনি গজারিয়ায় ইউনিয়ন গ্রাম পুলিশের দফাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আর নিহত শিশু আমিন মিয়া গজারিয়া গ্রামের মুর্শিদ মিয়া ছেলে ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, সাপ্তাহিক হাজিরা দিতে প্রতি বুধবার থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আসেন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। প্রতি সপ্তাহের মতো আজও সকাল ১১টার দিকে গ্রামীণ এম্বুলেন্স (ব্যটারী চালিত অটো রিকসা) চালিয়ে চালকের আসনে বসিয়ে শহরের আসছিলেন দফার এরফান মিয়া। অটো রিকসাটি গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অতিক্রম করার সময় ৫ম শ্রেণির ছাত্র আমিন মিয়া দৌড়ে সড়ক পার হতে গেলে শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে অটো রিকশাটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এরফান মিয়া। ফলে অটো রিকসাটি গিয়ে স্কুল ভবনের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দফাদার এরফান মিয়াসহ শিশু আমিন মিয়া গুরুতর আহত হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দফাদার এরফান মিয়া মৃত বলে ঘোষণা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক। এছাড়াও গুরুতর আহত শিশু আমিন মিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেবার পথে সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম শাহারিয়ার জানান, আসলে দফাদার এরফান মিয়া একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন। মানুষের উপকার করার চেষ্টা করতেন। তিনি আরও জানান, ভাল আচার-ব্যবহারের কারণে একবার তিনি ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে পুরস্কার লাভ করে ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত।

ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম শাহারিয়ার আরও বলেন, মৃত্যুর আগেও প্রাণ দিয়ে একটি শিশুকে বাঁচাতে চেয়ে ছিলেন। সত্যিই সমাজে এমন মানুষ বিরল। আমরা পরিষদের পক্ষ থেকে নিহত দফাদার এরফান মিয়ার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করছি। এছাড়াও আমার তার পরিবারের সুখে দুঃকে পাশে থাকবো এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করবো।

এ প্রসঙ্গে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ জানান, আসলে করোনাকালীন সময়ে মুমূর্ষু রোগীদের গ্রাম থেকে নিয়ে আসতে সরকার গ্রামীণ এম্বুলেন্স হিসেবে গজারিয়া ইউনিয়নে একটি ব্যটারী চালিত অটো রিকসা দেয়া হয়। ফলে এটি গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ব্যবহার করতো। এই রিকসাটি রোগী ব্যতীত ব্যবহারে নিষেধ করা হয়ে ছিল। কিন্তু আজ শুনেছি, সাপ্তাহিক হাজিরা দিতে আসার পথে একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনই নিহত হয়েছে। আমরা তার পরিবার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। তিনি আরও জানান, দফাদার এরফান মিয়া নিহতের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। তার পরিবারের জন্য কি করা যায়, তা ভাবছেন।

সর্বশেষ