Friday, September 30, 2022
Homeজাতীয়বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী 

 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

 

ঢাকা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ :

 

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক ‘বাংলাদেশে প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০২২’ উদযাপনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। অনুসন্ধানী ও সৃজনশীল প্রতিবেদনের জন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদকপ্রাপ্ত গণমাধ্যমকর্মীদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করেন’ এবং প্রতি বছর  ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস’ উদযাপিত হয়ে আসছে। ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংবাদপত্রের গুণগত মান নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি হলুদ সাংবাদিকতা রোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবেশাধিকার এবং জনগণের ক্ষমতায়ন পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত। গণতন্ত্রের বিকাশসহ এর প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদপত্রের ভূমিকা খুবই গুরু্ত্বপূর্ণ। স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ  দেশে পরিণত করতে সরকার নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এসব কর্মসূচির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও মতামত পরিবেশনের মাধ্যমে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমসমূহ এগিয়ে আসবে-এ প্রত্যাশা করছি।

আমি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিব-২০২২’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।

জয় বাংলা। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী   

 

ঢাকা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ :

      

          প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

“১৪ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস’ উপলক্ষ্যে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকলকে আমি শুভেচ্ছা জানাই।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে যে প্রেস কাউন্সিল আইন প্রণয়ন করেছিলেন, তাঁর স্বপ্নের ফসল বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের আমলে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ তারিখে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই তারিখেই বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস উদ্‌যাপন করা হচ্ছে যা আনন্দের। 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে গণমাধ্যমের উন্নয়নে কাজ করেছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরাই প্রথম বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চালুর অনুমোদন দেই, যার মাধ্যমে অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার সবসময় গণমাধ্যমবান্ধব সরকার। গণমাধ্যম এখন পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করছে। আমরা গণমাধ্যম, তথ্য ও তথ্য-প্রযুক্তির বিকাশে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে নিবন্ধিত দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক মিলে মোট পত্রিকার সংখ্যা ৩,১৩৭টি। আমাদের সময়ে বেসরকারি খাতে ৪৫টি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল, ১৪টি আইপিটিভি, ২৭টি এফএম রেডিও এবং ৩১টি কমিউনিটি রেডিও’র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।  

আমরা করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দুঃস্থ, অস্বচ্ছল, অসহায়, অসুস্থ ও করোনায় মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিক ও তাদের পরিবারবর্গকে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সাহায্য প্রদান করেছি। সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রেস ক্লাবগুলোকে আধুনিকায়ন করে তোলার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমকে শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শৃঙ্খলা ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘জাতীয় সম্প্রচার আইন’ প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যম কর্মীদের বহুদিনের দাবি গণমাধ্যম কর্মী আইন করার উদ্যোগ গ্রহণ করে গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। 

সৎ সাংবাদিকতায় উৎসাহিত করতে ২০১৮ সাল থেকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের মাঝে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পদক। আগামীতেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও মানোন্নয়নে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আরো অগ্রণী ভূমিকা রাখবে, এটাই আমার প্রত্যাশা। 

বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল দিবস ২০২২ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করি। 

                   জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular