Saturday, October 1, 2022
Homeজাতীয় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

 বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

 বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

 

ঢাকা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ :

 

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

          “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে আমি এ বাহিনীর সকল সদস্যকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

            বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্রচারী ও উপকূলীয় জনগণের কাছে একটি অতি পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী পথ উপকূলীয় অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, মাদকের বিস্তার রোধসহ সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এ বাহিনী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে কোস্ট গার্ডের ক্রমাগত তৎপরতার ফলে বিগত বছরে চুরির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে চট্টগ্রাম বন্দর একটি নিরাপদ বাণিজ্যিক স্থান হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিতি লাভ করেছে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বেগবান হয়েছে। এছাড়া মাদকপাচার প্রতিরোধ ও দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশ সংরক্ষণেও কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ  অবদান রাখছে। একটি বাহিনীর উন্নয়নের পূর্বশর্ত হলো ক্রমাগত প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম এবং নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে অর্পিত দায়িত্বপালন। আমি আশা করি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যগণ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ  হয়ে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্বপালন করে কোস্ট গার্ডের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করতে সদা তৎপর থাকবে।

কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক দ্বিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এ বাহিনীর যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। দেশের জলসীমায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশে কোস্ট গার্ড এর সদস্যগণ নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্বপালন করে যাবে- এটাই সকলের প্রত্যাশা।

আমি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবস-২০২২’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করি।

জয় বাংলা। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

 

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

 

ঢাকা ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ :

 

          প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ২৭তম জয়ন্তী ও কোস্ট গার্ড দিবস- ২০২২’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :

          “বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড- এর ২৭তম জয়ন্তী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২২ উপলক্ষ্যে আমি এ বাহিনীর সর্বস্তরের সকল সদস্যকে জানাই আমার শুভেচ্ছা।

          সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য দূরদর্শিতায় ১৯৭৪ সালে ‘বাংলাদেশের টেরিটোরিয়াল ওয়াটার এন্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট’ প্রণীত হয়। পরবর্তীতে এ আইনের হাত ধরেই আমাদের সমুদ্র বিজয় সুনিশ্চিত হয়।

          বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্র এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশের সুনীল অর্থনীতি কেন্দ্রীক কার্যক্রমের নিরাপত্তা বিধানে কোস্ট গার্ড অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ১৯৯৪ সালে মহান জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আনীত বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড একটি বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর ১৯৯৬ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন জোনের জন্য ভূমি বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং নতুন নতুন জলযান সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড- এর অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদান রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ হতে ২০২১ পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের উপকূলীয় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোস্ট গার্ড- এর স্টেশন ও আউটপোস্টসমূহে কোস্টাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন আকারের ৭৭টি জলযান নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট
গার্ডকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই এ বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির জাহাজ, হোভ্যারক্র্যাফট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন বোট।  

          কোস্ট গার্ড- এর জোনসমূহে কর্মরত সদস্যগণের বাসস্থান, ব্যারাক ও প্রশাসনিক ভবন ইত্যাদি নির্মাণ করা হয়েছে। পটুয়াখালী অঞ্চলে নিজস্ব প্রশিক্ষণ বেইস তৈরির মাধ্যমে কোস্ট গার্ডের জনবলের প্রশিক্ষণ সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা ‘বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রা’ নামে কমিশন করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড-এর জন্য ২টি ইনশোর প্যাট্রল ভেসেল, ১টি ফ্লোটিং ক্রেন, ২টি টাগ বোট এবং ১৬টি বোট তৈরি করা হয়েছে। এ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য গজারিয়ায় একটি ডকইয়ার্ড নির্মাণ করা হচ্ছে। সুনীল অর্থনীতি ও গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ১৫ হাজার জন জনবল অর্জনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি আশা করি, এ বাহিনীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে আমাদের সহযোগিতা চলমান থাকবে এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।    

          আমি আশা করি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হয়ে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রেখে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।  

          আমি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড- এর ২৭তম জয়ন্তী ও কোস্ট গার্ড দিবস-২০২২- এর সফলতা কামনা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,   বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular