ভৈরবে মধু চাষীকে কৃষিকর্মকর্তার হয়রানীর অভিযোগ

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শপাড়া গ্রামে পাকুন্দিয়া থেকে আগত ছফির নামেএক মধু চাষীকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। ছফির উদ্দিন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার  মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মৌ খামারীরা ভৈরবে আসে সরিষা ক্ষেত থেকে মধু আহরণের জন্যে। ছবির উদ্দিনও তাদের মাঝে একজন।জানা যায় যে, চলতি মৌসুমে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আদর্শ পাড়া গ্রামে সরিষা ক্ষেতে ৫০টি মৌ বক্স স্থাপন করে। কিন্তু পরিদর্শনের নাম করে ভৈরব কৃষি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা টাকা না দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে মধু নিয়ে আসে। এমন কি হুমকি প্রদান করা হয় যে তাদেরকে বিনামূল্যে মধু না দেয়া না  হলে সব মৌ বক্স তুলে নিয়ে যাওয়া হবে।

ছবির উদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, গত ১০ ডিসেম্বর ২০২০২১ইং তারিখে আদর্শপাড়া প্রাইমারী স্কুলের পাশে ৫০টি বক্স দিয়ে একটি মৌ খামার বসিয়ে মধু আহরণ শুরু করে। গত ২৩ ডিসেম্বর ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম মৌ খামার পরিদর্শনে গিয়ে সাড়ে ৬ কেজি মধু নিয়ে আসে এবং বিক্রয় মূল্যের অর্ধেক পরিশোধ করে। আবার গত ৩০ ডিসেম্বর  ২০২১ ইং তারিখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণকর্মকর্তা তাসফিয়া সুলতানা,  ব্লক সুপার ভাইজার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাসরিন বেগম  ও শাকিল নামে এক অফিস সহকারী গিয়ে ডিডি কর্মকর্তা, নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙ্গিয়ে ১২ কেজি মধু (যাহার বিক্রয় মূল্য ৬০০০টাকা) নিয়ে আসে এবং ১৫০০ টাকা পরিশোধ করে।

এমন ধরনের অবিচার ও অত্যাচারে নিরুপায় হয়ে ছবির উদ্দিন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি কর্মকর্তা বরাবর একটি অভিযোগ পত্র প্রেরণ করে।

এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রকৃতপক্ষে এমন ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।যেটুকু ঘটেছে সেটা কেবলই ভুল বুঝাবুঝি।তাছাড়া ৩০ ডিসেম্বর যা ঘটেছে আমি বিষয়টি শুনে মৌ চাষীকে আমি নিজে কথা বলার জন্যে  ফোন করি অফিসে আসতে বলেছিলাম কিন্তু সে আসেনি।

উক্ত ঘটনায় ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান সবুজ এর সাথে কথা বললে তিনি জানান,  এমন ধরনের কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা আমি এখনো শুনিনি। যদি লিখিত কোন অভিযোগ আমি পায় তবে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সর্বশেষ