ভৈরবে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় আসামী করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন

ভৈরবে ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় আসামী করার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন

এম.আরওয়াসিম, ভৈরব( কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি  প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে এক ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলায় আসামী করে হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যুবসমাজ ও এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুরে ভৈরব শহরের কমলাপুর সরকার বাড়ি জামে মসজিদ সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেয় কমলপুর সরকার বাড়ি জামে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিগণ, কমলপুর মধ্যপাড়া যুব সংগঠন ও কমলপুর মধ্যপাড়া ব্যবসায়ীবৃন্দ ও এলাকাবাসী লোকজন। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এসময় বক্তব্য রাখেন, সরকার বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুনির হোসাইন হামিদী, নূরানী মসজিদে খতিব মাওলানা এনায়েত উল্লাহ ভৈরবী প্রমুখ। এসময় এলাকাবাসী লোকজনের মধ্যে অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তরা বলেন, নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক একজন ভালো মানুষ, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানি মুলক মামলা হয়েছে সেটা খুবই দুঃখজনক। কারখানায় একটি দূর্ঘটনা ঘটেছে সেটা নিয়ে একটি পক্ষ ব্যবসায়ী হাজী ইয়াকুবকে ফাঁসাতে ও ব্ল্যাকমেইল করতে সোচ্চার রয়েছে। তাই মিথ্যা মামলার তীব্র  প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেন। বক্তারা আরও বলেন, ১০ বছরের শিশু নাঈম হাসান নাহিদ কারখানার কোনো কর্মচারী ছিলনা। ঘটনার দিন কারখানার ভিতর ঢুকে ড্রিল মেশিনে বাবরি টান দিতে গিয়ে আহত হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ব্যবসায়ীকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে বক্তারা জানান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী হাজী মোঃ ইকবাল হোসেন ইয়াকুব লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমি একজন ধর্মভীরু নিরীহ মানুষ, দীর্ঘদিন ধরে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ব্যবসা করছেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গত  ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে একটি দূর্ঘটনা ঘটে। নাঈম হাসান নাহিদ ১০ বছরের শিশুটির পরিবার আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে আমারই নূর ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতো। কাছাকাছি হওয়ার প্রায় সময় নাঈম ওয়ার্কশপের ভিতরে ঢুকত। ঘটনার দিন বিকেলেও সে ঢুকে ড্রিল মেশিনের কাজ দেখতে যায়। ওই সময় কর্মচারী তাজুল ইসলাম অটো ড্রিল মেশিনে কাজ করার সময় পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশু নাঈম ড্রিল মেশিনের বাবরি টান দিয়ে নিতে চাইলে নাঈমের হাত পেচিয়ে যায়। তবে শিশুটির হাতে কব্জি অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলেন চিকিৎসক। চিকিৎসার মাধ্যমে বর্তমানে নাঈম সুস্থ রয়েছেন বলে জানান। দূর্ঘটনার সঠিক ঘটনাটি একটি মহল উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাকে বø্যাকমেইল করার জন্য মিথ্যা আসামি করে মামলা করেছে। এরই অংশ হিসেবে দুই একটি পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ প্রকাশিত হওয়া এর  তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, এঘটনায় কিশোরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদে অনুসন্ধানী লিখিত প্রতিবেদনে আহত শিশু নাঈম হাসান নাহিদ নূর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের শ্রমিক ছিলনা বলে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে নাঈম হাসান নাহিদ উক্ত কারখানার শ্রমিক থাকার কোন নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়নি।

তিনি আরো বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করে থানায় মামলা দায়ের পর ওই মামলার এজাহারের হুবহুব নিরপরাধ ব্যক্তিদের জড়িয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা মনগড়া প্রতিবেদন (চার্জসিট) দিয়েছে বিজ্ঞ আদালতে। পুলিশের একজন তদন্তকারি কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অন্যকোন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য ঘটনা উদঘাটন করে সঠিক প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে পুণ:তদন্তের দাবি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার এসআই আব্দুর রহমান ভূঁইয়াকে এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যপারে মামলার চার্জসিট দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতে বিচারাধীন মামলার বিষয়ে আর কোনো কথা বলতে রাজি নই। এ ঘটনায় মামলার বাদী নাঈমের চাচা শাহ পরানের মুঠোফোনে বক্তব্য নিতে বার বার ফোন করেও মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়

সর্বশেষ