ব্যয় বাড়ছে সংশোধিত মেট্রোরেল প্রকল্পে

সংশোধন হচ্ছে মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্প। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এ অংশের সংশোধনী প্রস্তাব শিগগিরই আসবে পরিকল্পনা কমিশনে। এখন সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব-আরডিপিপি তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড-ডিএমটিসিএল। এই সংশোধনীতে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। মেয়াদও বাড়বে এক বছর।

গত ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি-পিআইসির সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক। ওই সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭২ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য নির্ধারিত উত্তরা তৃতীয় পর্ব থেকে আগারগাঁও অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৮৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ ছাড়া দ্বিতীয় পর্যায়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৮২ শতাংশ। ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল, মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টক (রেলকোচ) এবং ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ৬৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশের প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।

সংশোধনী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের জন্য এই সংশোধনীর প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যে ব্যয় বাড়বে তা ওই অংশের নির্মাণের জন্যই। এখানে মূল প্রকল্পের ওপর কোনো প্রভাব আসবে না। মূল প্রকল্পটির যে অংশ যখন সমাপ্ত হওয়ার কথা তখনই হবে।

পিইসি সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ডিপিপির (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে ১৯ হাজার ৬৭৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৭৯৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। তবে প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় রয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের আট হাজার ৪০৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং জাইকার ঋণ থেকে তিন হাজার ৮১ কোটি ১১ লাখ টাকা বাড়ছে।

কার্যবিবরণীতে ব্যয়বৃদ্ধির কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশের জন্য এ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভূমি অধিগ্রহণ, নির্মাণ এবং ই অ্যান্ড এম সিস্টেম সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের (টিওডি) জন্য ভূমি বরাদ্দ ও নকশা তৈরি, ট্রেন পরিচালনার বিদ্যুৎ খরচ এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া স্টেশনে যাত্রী ওঠানামার জন্য লিফট, এস্কেলেটর ও সিঁড়ি তৈরি, ফুটপাত নির্মাণ, পরামর্শক ব্যয় এবং আনুষঙ্গিক কার্যক্রমের জন্য ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রথম সংশোধনীটি হয়েছিল মূলত প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সংশোধনী। সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করতে হবে। তবে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী মূলত এটাকেই বলা যায়।

পিআইসি সভায় অংশ নিয়ে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব মাহবুবের রহমান বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বলেন, ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে জাইকা এবং সরকারের তহবিলের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি পুনরায় যাচাই করতে হবে। কেননা যাতে কোনো অঙ্গ, উপঅঙ্গ বা কোনো খাতের ব্যয় বাদ না যায়। এ সময় সভার সভাপতি এমএএন ছিদ্দিক বলেন, প্রত্যেকটি অঙ্গ ও উপঅঙ্গসহ অন্যান্য ব্যয় পুনরায় যাচাই করতে অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বাকী মিয়াকে নির্দেশনা দেন।

আলোচনায় অংশ নেন একই বিভাগের অপর যুগ্মসচিব আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, পরামর্শক খাতের প্রস্তাবিত ব্যয় পুনর্যাচাই করা প্রয়োজন। এ ছাড়া নির্মাণ কাজ চলাকালীন সুদের জন্য নির্ধারিত ব্যয় সরকারি খাতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। এ সময় প্রকল্পটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমলাপুর বর্ধিত অংশের ব্যয় প্রাক্কলন, মুদ্রা বিনিময় হারের পরিবর্তনসহ নানা কারণে পরামর্শক সেবার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। যা ডিপিপির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) উপসচিব খাদিজা পারভীন বলেন, এই ব্যয় আগের মতোই জাইকার ঋণের অর্থে অন্তর্ভুক্ত রাখলে ভালো হবে। সভার সভাপতি বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাস্থানে প্রতিফলনের সুপারিশ করেছেন।

সর্বশেষ