বাংলাদেশে গত ২০ বছরে ত্রিশোর্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্ধত্বের হার শতকরা ৩৫ ভাগ কমেছে

বাংলাদেশে গত ২০ বছরে ত্রিশোর্ধ জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্ধত্বের হার শতকরা ৩৫ ভাগ কমেছে

 

ঢাকা ৯ ডিসেম্বর ২০২১ :

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ অর্থাৎ প্রতি দশজনে তিনজন দৃষ্টি ত্রুটিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাছাড়া পঞ্চাশোর্ধ জনসংখ্যার মধ্যে দৃষ্টি ত্রুটিজনিত সমস্যা বেশি। বাংলাদেশের জন্য দৃষ্টি ত্রুটিজনিত সমস্যা এবং অন্ধত্ব একটি বড় সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু এ সম্পর্কিত সঠিক এবং হালনাগাদ তথ্য এতদিন আমাদের হাতে ছিল না। ১৯৯৮-৯৯ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রথম সরকারের সময় Bangladesh National Council for the Blind (BNCB)এর কার্যক্রম শুরু হয়। গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব আই কেয়ার প্রকল্পের কাজ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে চক্ষু চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। মন্ত্রী আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘ন্যাশনাল আই কেয়ার’ কর্তৃক রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত ÔDissemination seminar on Nationwide Blindness Survey 2020 ReportÕ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের দৃষ্টি ত্রুটিজনিত সমস্যার প্রকৃত চিত্র অনুধাবনের জন্য ১৯৯৯-২০০০ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে প্রথমবারের মতো জাতীয় অন্ধত্ব জরিপ পরিচালিত হয়। সেই জরিপ থেকে আমরা জানতে পারি বাংলাদেশের ৩০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্ধত্বের শতকরা হার ছিল ১ দশমিক ৫৩ ভাগ যা তৎকালীন জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার জন। ২০০৭ সালে Vision 2020 Right to Sight এর আলোকে Strategy for National Eye Care for Vision 2020 in Bangladesh শুরু হয়। যাতে বাংলাদেশের অন্ধত্বের হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কমিয়ে ০ দশমিক ৭৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তিনি বলেন, অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার যে ২০ বছর পর আবারও জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশব্যাপী অন্ধত্ব জরিপ ২০২০ পরিচালিত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অন্ধত্বের হার ১ শতাংশ যা ২০ বছর পূর্বের অন্ধত্বের হারের চেয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই জরিপ হতে অর্জিত তথ্যগুলো আমাদেরকে অন্ধত্ব নিবারণ এর জন্য পরবর্তী পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করবে এবং আমরা প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় সঠিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, বিগত ২০ বছরে চক্ষু সেবায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। অন্ধত্ব দূরীকরণের জন্য ÔNational Eye CareÕ অপারেশনাল প্লানের মাধ্যমে বর্তমান প্রতিটি উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন; প্রতিটি সদর জেলা সদর হাসপাতাল এবং বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহের চক্ষু সেবার মান উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণ; Outreach Mega Eye Camp এর মাধ্যমে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা এবং চক্ষু রোগীর চিকিৎসা প্রদান করা; চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য দক্ষ জনবল তৈরি; School Site Testing; Demand Side Financing সহ বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় চক্ষু সেবা পৌঁছে দিতে করণীয় সকল বিষয়ের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে ন্যাশনাল আই কেয়ারকে পরামর্শ প্রদান করেন।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. গোলাম মোস্তাফার সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রাক্তন উপদেষ্টা প্রফেসর সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ আলী নূর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মোঃ শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর এবিএম খুরশিদ আলম, প্রফেসর এএইচএম এনায়েত হোসাইন, প্রফেসর দীন মোহাম্মদ নুরুল হক, প্রফেশ্বর আভা হোসেন প্রমুখ। প্রফেসর ডা. একেএম ফজলুর রহমান সেমিনারে সিআইপিআরবি জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন।

সর্বশেষ