প্রকৃতি প্রদত্ত পাহাড়সমূহ জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা জরুরী : পবা

প্রকৃতি প্রদত্ত পাহাড়সমূহ জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা জরুরী : পবা

 

ঢাকা ১১ ডিসেম্বর ২০২১ :

পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই ভবিষ্যতকে সামনে রেখে জাতিসংঘ ২০০৩ সালে ১১ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক পাহাড়/পর্বত দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। পাহাড়ের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য ইত্যাদি বিষয়ের গুরুত্ব তুলে ধরাই এই দিবসের উদ্দেশ্য। এ লক্ষে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আজ ১১ ডিসেম্বর ২০২১, শনিবার, সকাল ১১ টায় “পাহাড়ের ইকোসিস্টেম রক্ষার্থে পাহাড় কাটা ও গাছ কাটা বন্ধ কর” শীর্ষক অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন  (পবা)’র  সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. মো. আবদুস সোবহান -এর সভাপতিত্বে ও পবা’র সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল এর সঞ্চালনায় উক্ত অনলাইন আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ এর সাবেক মহাপরিচালক ড.এ.কে.এম. খোরশেদ আলম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্ভিদ  বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জসিম উদ্দিন, গবেষক, প্রতিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র সংরক্ষণ এর পাভেল পার্থ, গ্রিনফোর্স এর সমন্বয়ক ও পবা’র সম্পাদক মেসবাহ সুমন প্রমূখ।

পবা’র এবছরের  প্রতিপাদ্য হচ্ছে টেকসই পর্বত পর্যটন (Sustainable Mountain Tourism)। পাহাড়ে টেকসই পর্যটন অতিরিক্ত এবং বিকল্প জীবিকার ক্ষেত্র তৈরি করতে এবং দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পাশাপাশি ল্যান্ডস্কেপ এবং জীববৈচিএ্য সংরক্ষণে অবদান রাখতে পারে। এটি প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষেণের একটি উপায়, স্থানীয় কারুশিল্প এবং উচ্চ মূল্যের পণ্যগুলিকে প্রচার করার এবং স্থানীয় উৎসবের মতো অনেক ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান উদযাপন করার একটি উপায়।

পবা’র সুপারিশসমূহ :

১. প্রকৃতি প্রদত্ত পাহাড়সমূহ জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা।

২. টেকসই  পাহাড় পর্যটন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরী।

৩. পাহাড়ের গঠন প্রকৃতি, বৃষ্টিপাতের মাত্রা ও পরিমাণের ভিত্তিতে পাহাড়গুলোকে সতর্ক, ঝুঁকিপূর্ণ, চরম ঝুঁকিপূর্ণ  শ্রেণীতে বিন্যাশ করা এবং তার আলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।

৪. পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের বৃক্ষ নিধন প্রতিরোধে অবিলম্বে সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা।

৫. পাহাড়ের অবৈধ দখলদার, ভ’মিদস্যুসহ পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ও সহযোগিতাকারীদের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইমারত নির্মাণ আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।

৬. ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ জায়গায় বসবাসের জন্য জরুরীভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা।

৭. প্রতিবেশের হুমকি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সাইট নির্ধারণ এবং ইকোটুরিজম ও কৃষি কার্যক্রম পরিচালনা করা।

৮. পাহাড়ের গাছপালা ও মাটি কাটা বন্ধ করা।

৯. জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ পাহাড় প্রতিবেশব্যবস্থা সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১০.রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং বনভ’মি ধ্বংস করে পাহাড়ে তাদের বসতি স্থাপন ও বন নির্ভর জীবনযাপনের ফলে পরিবেশের ইতিমধ্যে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হবে তা মূল্যায়নের জন্য পরিবেশগত প্রভাব নিরুপণ করা আবশ্যক। এ মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরিবেশ ও জীববেচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

১১.পাহাড় প্রতিবেশব্যবস্থার বিপর্যয় মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন   করা।

 

দেশের একটা বড় অংশের পর্যটন এবং বিনোদন ভ্রমণ শুরু হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেটের পাহাড়ি এলাকায়। রেমাক্রী, তাজিংডং, চিম্বুক, ডিমপাহাড়, সাফাখুম, দেবতা পাহাড়, ক্রেওক্রাডং, বগালেক, সাজেক কী সীতাকুন্ডের পাহাড়ে ভ্রমণের অজস্র ভিডিও আছে ইউটিউবে। বোঝা যায় পাহাড়ে পর্যটনের একটা দ্রুত বিকাশ ঘটেছে, কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা নীতিমালা বা প্রাথমিক কোনো পাহাড়ি-পর্যটন শিক্ষা ছাড়াই।

এমনকি যারা স্রেফ মুনাফা বাড়াতে এসব পাহাড়ে অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা গড়ে তুলছেন তা স্থানীয় প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যর জন্য কতোটা ঝুঁকিপূর্ণ এসব মূল্যায়ণও আমরা করিনি। পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র এবং আদি সাংস্কৃতিক জীবন কিংবা টেকসই পাহাড়-পর্যটনের প্রসঙ্গকে বিবেচনা না করেই বান্দরবানের চিম্বুকে শোংনামহুং পাহাড়ে প্রশ্নহীনভাবে বিলাসবহুল ম্যারিয়ট হোটেল নির্মিত হচ্ছে।

এদেশের আদিবাসী জনগণ অনেকেই নিজেদের পাহাড়ের সন্তান মনে করেন। বিশেষ করে বিভিন্ন আদিবাসী ভাষায় পাহাড়ের নামকরণের ইতিহাসে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। মারমা ভাষায় তজিংডং বা ত-জিং-টং মানে সবুজ পাহাড়, ক্যাক-ক্রো-টং (ক্রেওক্রাডং) মানে পাহাড়চূড়া। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় সমূহের যে তালিকা তৈরী করে তাতে দেখা যায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি রেঞ্জের ২৯টি পাহাড়ের ভেতর ৫টি রেঞ্জের ৯টি পাহাড়ের নামই পাংখোয়া ভাষার।

রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার একটি পাহাড়ের নাম থাংনাং। থাংনাং নামের এক পাহাড়ি পোকার নামে পাংখোয়ারা এই পাহাড়ের নাম রেখেছেন। সাজেক উপত্যকার বড় পাহাড়ের নাম সাজেক থ্লাং, পাংখোয়া ভাষায় এর অর্থ অপূর্ব সুন্দর পাহাড়। আবার হাতির নামেও গড়ে উঠেছে অনেক পাহাড়ি এলাকা। শেরপুরের ডালু কোচেরা পাহাড়ি টিলার নাম রেখেছেন হাতীবান্ধা, হাতীপাগার। ম্রো ভাষায় শোংনাম হুং মানে ভূতের পাহাড়, চিমবক ম্রোর নামে চিম্বুক পাহাড়। তো আজকে আমরা যখন টেকসই পাহাড়-পর্যটনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবো, প্রথমেই আমাদের নতজানু হওয়া জরুরি সেইসব জীবনধারার প্রতি যারা পাহাড় আগলে জীবন দিয়ে পাহাড়কে সুরক্ষা করে বাঁচেন। পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র, প্রাকৃতিক ও সাংষ্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং পাহাড় সুরক্ষায় বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় নীতিকে বিশ্লেষণ করে পাহাড়বান্ধব পর্যটন বিকশিত করা জরুরি। সকলের অংশগ্রহণে ও জাতীয় পাহাড় সুরক্ষা নীতি গ্রহণ ছাড়া কোনোভাবেই এই টেকসই পাহাড়-পর্যটন সম্ভব নয়।

 

পাহাড়-পর্বত প্রাকৃতিক সম্পদের অন্যতম উৎস। পৃথিবীর প্রায় ২২ শতাংশ পার্বত্য অঞ্চল। এ অঞ্চলে পৃথিবীর প্রায় এক-দশমাংশ মানুষের বসবাস এবং ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মিঠা পানির উৎস। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবন অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। পর্বতমালা, নদ-নদী, বহু প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী এ অঞ্চলকে করেছে বৈচিত্র্যপূর্ণ। বৈশিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ও মানুষের অপরিকল্পিত কর্মকান্ডের কারণে বিশ্বব্যাপী পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে, বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য।

 

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ১২ শতাংশ পার্বত্য অঞ্চল। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্রগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্গত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার এবং পাহাড়গুলো বেলে পাথর, কর্দম, ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ: ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর পূর্বাংশ এবং মৌলভিবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর সর্বোচ্চ উচ্চতা ২৪৪ মিটার। বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় ৮ শতাংশ এলাকা নিয়ে সোপান অঞ্চল গঠিত। সোপান অঞ্চলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়- বরেন্দ্রভূমি, মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং লালমাই পাহাড়।

 

চট্রগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার জেলা মূলত পাহাড় ঘেরা প্রকৃতি নিয়ে সজ্জিত। এসব পাহাড়ী এলাকার বন-জঙ্গল উজাড়, পাহাড় কেটে সমতল করে বসতবাড়ি নির্মাণ হচ্ছে। এছাড়াও অপরিকল্পিত ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, ইকোটুরিজম, কৃষি উৎপাদন, রাবার চাষের নামে বৃক্ষ নিধন চলছে। এভাবে চললে অদূর ভবিষ্যতে দেশে পাহাড় থাকবে কিনা তা বলা বড়ই মুশকিল। মনে রাখতে হবে, পাহাড় কোন ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তি নয়। এটি প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পূর্ণ জাতীয় সম্পদ।

 

পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করা হলেও থেমে নেই পাহাড় কাটা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগ লক্ষ্যই করা যায় না। ভূমিদস্যুরা পাহাড় কেটে ক্ষতবিক্ষত করে রাখে। বৃষ্টির সময় পাহাড়ের বালিগুলো পানিপ্রবাহে নেমে আসে এবং এতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়। বিগত প্রায় চার দশকে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসের বিচ্ছিন্ন ঘটনায় প্রতি বছরই প্রাণহানী ঘটছে।

২০১৭ সালের ১২ জুন চট্রগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার জেলায় পাহাড় ধসে ১৬২ জন প্রাণ হারান, ৪ শতাধিক আহত হন। জানমালের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি রাঙ্গামাটি দেশের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্রগ্রামে পাহাড় ধসে ১২৭ জন প্রাণ হারান। ২০০৭ সালে গঠিত কমিটি ৩৫টি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন দাখিল করলেও পাহাড় ধস প্রতিরোধ, প্রতিকার ও ব্যবস্থাপনায় বিগত এক যুগেরও অধিক সময়ে কোন কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি।

ফলশ্রুতিতে ঘটছে পাহাড় ধসের মহাবিপর্যয়। যাতে ব্যাপক প্রাণহানী, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। পাহাড় রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মানবিক ও পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা আবশ্যক।

অন্যথায় আমাদেরকে ২০১৭ সালের চেয়েও আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। চট্রগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গঠন প্রকৃতি বালিযুক্ত, দোআঁশ, বালিময়। এধরনের পাহাড়ে টানা ২০০ মিলিমিটারের উপরে বৃষ্টিপাত হলে এগুলোতে ধস নামে। পাহাড় ধসের মাত্রা ও গতি বেড়েই চলেছে এবং বিপর্যস্ত এলাকার বিস্তৃস্তিসহ জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সব মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অবস্থান করছে। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের বসতি স্থাপন ও জীবন যাপন দেশের বিশেষ করে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্রগ্রাম এলাকার বনাঞ্চলসহ প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে প্রশাসনিক, অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার ব্যয় বেড়ে চলেছে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ১১টি স্থানে পাহাড় ও বন কেটে মোট চার হাজার ৮৫১ একর বনভূমিতে রোহিঙ্গাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় এক লাখ ৬৫ হাজার আশ্রয় ক্যাম্প ও বিভিন্ন অবকাঠামো। এর মধ্যে প্রায় তিন হাজার এক শত ৫৬ একর সংরক্ষিত বনভূমি। সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয়েছে। তারা পাহাড়ি বনভূমিতে বসবাসের পাশাপাশি বনের গাছ-বাঁশ কেটে তৈরি করেছে ঘর-বাড়ি। আর বনের কাঠ ব্যবহার করছে জ্বালানি কাজে। এতে উজাড় হচ্ছে উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি ও সামাজিক বনায়ন। বনভূমির গাছ কাটা এভাবে চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই উখিয়া, টেকনাফ, কক্সবাজার থেকে হারিয়ে যাবে বন। জ্বালানি কাঠের এই চাহিদা পূরণে পর্যায়ক্রমে বৃহত্তর চট্রগ্রামের বনভূমিও ধ্বংস হয়ে যাবে।

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের পরিবেশকে ইতিমধ্যে লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। পাহাড়, টিলা, বনাঞ্চল নিধনের ঘটনা পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গাদের কারণে পর্যটন খাত ইতিমধ্যেই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এতে পর্যটন ব্যবস্থা উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।

ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের কারণে কক্সবাজারের ৬০ হাজার হেক্টর বনভূমির ২৬ হাজার ৬৬০ হেক্টরের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। পর্যায়ক্রমে ২৬ হাজার ৬৬০ হেক্টরের পুরো বনভূমিই ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং তা কম জৈববস্তুপুঞ্জ ও উৎপাদনশীলতা সম্পন্ন লতা-গুল্ম-ঝোপ এলাকায় রূপান্তরিত হবে। বনভূমি থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ অব্যাহত থাকলে, তা প্রস্তাবিত ইনানী ন্যাশনাল পার্ক এবং হিমছড়ি ন্যাশনাল পার্কের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলি বন্যপ্রাণীর উপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে হাতির আবাসস্থলের ক্ষতি এবং আবাসস্থল টুকরা টুকরা হয়ে যাওয়া। কিছু কিছু ক্যাম্প হাতির চলাচল পথের উপর নির্মাণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ