মেট্রোরেল : অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে

0
34

মেট্রোরেল : অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে

 

ঢাকা ০৮ নভেম্বর, ২০২১ :

 

মেট্রোরেল সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৩০৮৮ জন। এতে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে।

ছােট ছােট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযােগ্য সংখ্যায় হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানীর ব্যবহার কম হবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যােগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে।। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সাশ্রয়কৃত কর্মঘন্টা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।

ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে অত্যাধুনিক গণপরিবহন হিসেবে ৬(ছয়)টি মেট্রোরেল সমন্বয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন Dhaka Mass Transit Company Limited (DMTCL) এর মাধ্যমে মােট ১২৯.৯০১ কিলােমিটার (উড়াল ৬৮.৭২৯ কিলােমিটার এবং পাতাল ৬১.১৭২ কিলােমিটার) দীর্ঘ ও ১০৫টি স্টেশন (উড়াল ৫২টি এবং পাতাল ৫৩টি) বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তােলার নিমিত্ত সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা ২০৩০ গ্রহণ করেছে।

এই সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা অনুসরণে ২০,১০ কিলােমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল বা MRT Line-6 এর নির্মাণ কাজ early commissioning এর লক্ষ্যমাত্রা। অর্জনে পুরােদমে এগিয়ে চলছে।

২০২৬ সালের মধ্যে কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ১৯.৮৭২ কিলােমিটার পাতাল এবং নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপাে পর্যন্ত ১১.৩৬৯ কিলােমিটার উড়াল মােট ৩১.২৪১ কিলােমিটার দীর্ঘ ও ২১টি স্টেশন বিশিষ্ট MRT Line-1 নির্মাণের লক্ষ্যে Detailed Design, ভূমি অধিগ্রহণ এবং দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম চলমান আছে। কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর রুটেই বাংলাদেশে প্রথম পাতাল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মিত হতে যাচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে উড়াল ও পাতাল মেট্রোরেলের সমন্বয়ে ২০ কিলােমিটার দীর্ঘ MRT Line-5: Northern Route-এর বিভিন্ন Survey, Detailed Design ও ভূমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

একই সময়ের মধ্যে G2G ভিত্তিতে PPP পদ্ধতিতে MRT Line-2 নির্মাণের লক্ষ্যে Preliminary Study চলমান আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত রেলওয়ে ট্রাকের পার্শ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলােমিটার দীর্ঘ উড়াল মেট্রোরেল হিসেবে PPP পদ্ধতিতে MRT Line-4 নির্মাণের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন আছে।

০২। গাবতলী থেকে আফতাব নগর পশ্চিম পর্যন্ত ১২.৮০ কিলােমিটার পাতাল এবং আফতাব নগর সেন্টার থেকে বালিরপাড় পর্যন্ত ৪.৬০ কিলােমিটার উড়াল সহ মােট ১৭.৪০ কিলােমিটার দীর্ঘ MRT Line-5: Southern Route বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বিস্তারিত নকশা ও দরপত্র সহায়তার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়ােগ ইতােমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বেসিক ডিজাইন এর কাজ চলমান আছে। ডিএমআরটিডিপি (লাইন-৫) : সাউদার্ন রুট (পিআরএফ) প্রকল্পের এর আওতায় সহসাই বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। বাংলাদেশ সরকার ও Asian Development Bank (ADB)-এর আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

০৩। MRT Line-5: Southern Route বা ঢাকা মহানগরীর দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেলে ২০৩০ সালে প্রতিদিন ৯ লক্ষ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি একমুখী মেট্রো ট্রেন ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর ১৬ টি স্টেশনে থেমে ৩০ মিনিটে গাবতলী থেকে বালুরপাড় পর্যন্ত যাতায়াত করবে।

০৪। Asian Development Bank (ADB) এর সমীক্ষা অনুযায়ী ২০৩০-২০৩১ অর্থ বছরে মােট ২১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৭০ হাজার কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে। বছরে ৪১.২২ হাজার টন জ্বালানী সাশ্রয় হবে। রাস্তার গাড়ি দূরত্ব বছরে ৬৪২ হাজার কিলােমিটার হাস পাবে এবং ফলশ্রুতিতে রাস্তায় ১০৪৯ সংখ্যক গাড়ির চলাচল কমে যাবে। বায়ুতে ১৬.১৯ হাজার টন। CO2 নির্গমন কমে যাবে এবং অন্যান্য গ্যাসের নির্গমন ৫.৭৩ হাজার টন হ্রাস পাবে।

০৫। বাংলাদেশের দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল MRT Line-5: Southern Route সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোন ধরনের জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানী ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ু দূষণ হওয়ার কোন সুযােগ নেই। Railway Track এর নিচে Mass Spring System (MSS) থাকবে। Continuous Welded Rail (CWR) ব্যবহার করা হবে।

উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরােধক হিসেবে কাজ করবে।

ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দুষণ মাত্রা মানদন্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে।

সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here