সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতা জরুরি

0
43

দেশে কভিড-১৯ সংক্রমণ হার এখন ১ শতাংশের ঘরে। স্বাভাবিকভাবে চলছে অফিস, আদালত, কল-কারখানা। খুলেছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় ঢিলেঢালাভাব চলে এসেছে সব জায়গায়। এই অবহেলার সুযোগে করোনার তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক পরা এবং টিকা দেওয়ায় জোর দিয়েছেন তারা। মতামত নিয়েছেন-জয়শ্রী ভাদুড়ী

স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুহার নিম্নমুখী। উঠে গেছে সব বিধিনিষেধ, স্বাভাবিকভাবে চলছে জীবনযাত্রা। এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে হবে। গণপরিবহনে ভিড়, গাদাগাদি করা যাবে না। করোনা ঠেকাতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।

তিনি গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় আত্মতুষ্টিতে থাকার সুযোগ নেই। দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন ঢেউ যে আসবে না তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। করোনার সব ভ্যারিয়েন্ট থেকে সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক। করোনার শুরু থেকে যে স্বাস্থ্যবিধি শেখানো  হচ্ছে তা অনুসরণ করতে হবে। না ধুয়ে হাত মুখে দেওয়া যাবে না। অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ আরও বলেন, করোনার উপসর্গ দেখা গেলে আরটি-পিসিআর কিংবা অ্যান্টিজেন টেস্ট করতে হবে। জ্বর, কাশি নিয়ে বাইরে বের হওয়া যাবে না। নিজের, পরিবারের এবং চারপাশের মানুষের সুরক্ষার কথা চিন্তা করতে হবে। দেশে ব্যাপক পরিসরে চলছে করোনার টিকাদান। পর্যাপ্ত টিকা সরকারের হাতে এসেছে। গণটিকা ক্যাম্পেইনে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। ১২-১৭ বছর বয়সী শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হয়েছে। টিকা নিলে করোনার ঝুঁকি এবং জটিলতা দুটোই কমবে।

দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবেজনস্বাস্থ্যবিদ এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় সবার মধ্যে ঢিলেঢালাভাব চলে এসেছে। এই অবহেলা ভাইরাসকে সুযোগ করে দিতে পারে। এ জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি দ্রুত টিকা নিশ্চিত করতে হবে। বয়স্ক ব্যক্তিদের টিকার আওতায় আনলে মৃত্যুহার নিম্নমুখী থাকবে।

তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, করোনা রোগী শনাক্তে আরটি-পিসিআর টেস্টের পাশাপাশি অ্যান্টিজেন টেস্ট ও জিন এক্সপার্ট মেশিনে করোনা শনাক্তের কাজ চলছে। এ জন্য জ্বরসহ করোনার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত টেস্ট করতে হবে। রোগী শনাক্ত হলে হাসপাতালে ব্যবস্থাপনায় নিতে হবে। বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের পরামর্শ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনের জন্য সিভিল সার্জনদের দায়িত্ব নিতে হবে। জনগণকে সুস্থ থাকতে সচেতন হতে হবে। ডা. মুশতাক হোসেন আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অফিস, শপিং মল, দোকানে, বাসে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। বাসে ভিড় হলে জানালা খুলে দিতে হবে।

বদ্ধ জায়গায় বেশি মানুষ জমায়েত হওয়া যাবে না। বদ্ধ জায়গায় করোনা বেশি ছড়ায়। টিকাদান দ্রুত করতে হবে। টিকা নিশ্চিত করতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো যাবে। টিকা নিতে মানুষের আগ্রহে কমতি নেই। টিকার ধারাবাহিক প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের টিকার আওতায় আনলে সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুহার কম থাকবে। রাশিয়া, মধ্য এশিয়াতে সংক্রমণ বাড়ছে, সঙ্গে মৃত্যুহারও বাড়ছে। টিকা নেওয়ার অনীহার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে

সন্ধানীর কেন্দ্রীয় পরিষদের উপদেষ্টা ডা. মণি লাল আইচ লিটু বলেন, করোনা সংক্রমণ কমে আসায় উঠে গেছে বিধিনিষেধ। খুলেছে অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চলছে গণপরিবহন। তাই করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিকল্প নেই।

গতকাল তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টে ভিড় করে খাওয়া কিংবা পর্যটন কেন্দ্রে জনসমাগম বাড়ানো যাবে না। সচেতন না হলে করোনার থাবা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। বিয়েসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জনসমাগম বাড়ানো যাবে না। বিশ্বের অনেক দেশে সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করেছে। নতুন ধরনের ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টা প্লাস দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। তাই সংক্রমণ কমেছে বলে স্বাস্থ্যবিধি মানায় অবহেলার সুযোগ নেই। ডা. মণি লাল আইচ লিটু আরও বলেন, জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, গন্ধ-স্বাদ না পেলে অবশ্যই করোনা টেস্ট করাতে হবে। আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখতে হবে। উপসর্গ থাকলে কুসংস্কারে না ভুগে অবিলম্বে করোনা টেস্ট করাতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here