ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ(ওয়ারী) কর্তৃক প্রতারক গ্রেফতার-১

হাসানুজ্জামান সুমন-বিশেষ প্রতিনিধি: রাজধানীর বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী প্রতারক মো: আবু মুসা আনসারী(২১) গোয়েন্দা বিভাগ ওয়ারী কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়।
মোছা:শেফালী আক্তার গত ২৩/১০/২১ তারিখে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা রুজু করেন,এই প্রতারক এর বিরুদ্ধে। তার মেয়ে গত১০/১০/২১তারিখে ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ভর্তি পরীক্ষা ভালো হওয়ার শর্তে সব রেজাল্ট খারাপ হয়। গত ১২/১০/২১ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর অভিযুক্ত আবু মুসা আনসারী এর সহিত ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়।সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসাবে পরিচয় দেন। তারপর সে তার মেয়ের রোল নাম্বার নিয়ে তাৎক্ষণিক চেক করে জানায়,যে মেয়ের পরীক্ষার রেজাল্ট ভালই হয়েছে। আপনার মেয়ে সরকারিভাবে চান্স পেয়েছে। কিন্তু কিছু উর্দ্ধতন কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে তাকে চান্স না দিয়ে অন্য কাউকে দেওয়া হয়েছে। তিনি যদি তার মেয়েকে ডেন্টালে চান্স পাওয়াতে চান তাহলে ১০লক্ষ টাকা লাগবে। তিনি বলেন আমার কাছে এত টাকা নেই,,তখন সে বলে এখন ২লাখ টাকা দিন,বাকি টাকা ডেন্টালে ভর্তি হওয়ার পর দিবেন। বাদিনি আরো জানায় বিশ্বাস না করাই সে বাদীর ইমু আইডিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একজন সরকারি সহকারী সচিব এর পরিচয় পত্র পাঠিয়ে দেয়। সেইসাথে বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য বাদীর মোবাইলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাথে চ্যাটিং এর স্ক্রিনশট পাঠায়।
বাদি উক্ত পরিচয় দেওয়ার পর বিশ্বাস স্থাপন করে ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় রেটিনা কোচিং সেন্টারের সামনে তার চাহিদা মোতাবেক ২লক্ষ টাকা প্রদান করে। টাকা দেওয়ার পর দিন তাকে ফোন দিয়ে রেজাল্ট এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী জানায় যে,আজকের মধ্যে উপর মহলে আরও ১লক্ষ টাকা দিতে হবে,নতুবা তার মেয়ের রেজাল্ট আগেরটাই থাকবে। তখন তার কথাবার্তার বাদীনির এর কাছে সন্দেহজনক মনে হলে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অনুমান করেন। এদিকে বাদীনির এর কাছে টাকার জন্য বারবার ফোন দিতে থাকে ও মেসেঞ্জারে ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদান করতে থাকে। যে তার চাহিদা মতন টাকা না দিলে বাদিনীর মেয়েকে কোথাও ভর্তি হতে দিবে না। সে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ওই সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় পত্র ব্যবহার করে বর্ণিত বাদিনীর নিকট থেকে ২লক্ষ টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে।
তারপর যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মামলাটিকে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ভেবে তদন্তের জন্য গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগে হস্তান্তর করে।ওয়ারী বিভাগের গোয়েন্দা উপ পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃ আশরাফ হোসেন বিপিএম এ নির্দেশনাই অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার জনাব মোঃতরিকুল রহমান এর নেতৃত্বে তার দলবল সহ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যাবহার করে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত ২৪/১০/২১ তারিখে আনুমানিক রাত ৮:৩০মিঃ সময় প্রতারক চক্রের সদস্য মোঃ আবু মুসা আনসারী কে গেন্ডারিয়া থানা ধীন নারিন্দা হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন ।অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরো জানায়,তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এরকম ভুয়া এনআইডি কার্ড ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্র ছাত্রী দের প্রবেশপত্র উদ্ধার করে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা এর আগেও প্রতারণা আত্মসাৎ করেছেন।

সর্বশেষ