সাইবার হামলা: অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ঝুঁকিতে
ঢাকা, ২ এপ্রিল ২০২১:
মাইক্রোসফট সার্ভারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ ২শ’র মতো প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা করেছে হাফনাম হ্যাকারস গ্রুপ। সাইবার হামলা তদন্তে গঠিত সরকারি সংস্থা বিডি সার্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগ উঠেছে, হাফনাম নামের এই হ্যাকার গ্রুপটি চীনের। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ এদের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী হাজারো প্রতিষ্ঠান হাফনামের হামলার শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, এ হামলায় অনেক প্রতিষ্ঠানের গোপনীয় তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। হামলার বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দপ্তরগুলোকে চিঠি দিয়েছে কম্পিউটার কেন্দ্রিক অপরাধ তদন্ত সংস্থা বিডি সার্ট।
সংস্থা বলছে, এ হামলার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, বাংলাদেশ আর্মি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে। গোয়েন্দারা বলছেন, অন্য হামলার তুলনায় এই হামলায় আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেশি।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) পরিচালক (সিএ অপারেশন ও নিরাপত্তা) ও (ডাটা সেন্টার) তারেক এম বরকতউল্লাহ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।সাইবার হামলায় হ্যকাররা প্রতিষ্ঠানগুলির কি পরিমাণ তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে তা অনুসন্ধান চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশকিছু দেশ এদের আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী হাজারো প্রতিষ্ঠান হাফনামের হামলার শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা -বিটিআরসি, বাংলাদেশ আর্মি, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকসহ তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যাদের সবাই মাইক্রোসফটের ইমেইল সেবা এক্সেল ব্যবহার করেন। যা কিনা নিরাপত্তার দিক দিয়ে খুবই দুর্বল।

প্রযুক্তিবিদ সালাউদ্দিন সেলিম বলেন,এটা আসলে ইমেইল সিস্টেমের ওপর হামলা হয়েছে। বাংলাদেশে আরো অনেক ধরনের ইমেইল সিস্টেম ব্যবহার হয়। নিরাপত্তার দিক থেকে এই মাইক্রোসফট ইএমেইল সিস্টেম একটু দুর্বল প্রকৃতির। যদিও এটা একটা বড় ধরনের হামলা তাই এটাকে অবহেলার কিছু নেই। তবে আমি মনে করি এটা দ্রুত রিকোভার করা সম্ভব।

গত বছরের আগস্টে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালাতে পারে এমন সতর্কতায় অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব ব্যাংকই রাতে বন্ধ রেখেছিলো এটিএম সেবা।