নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর বিষয়টি সংসদে নিয়ে এলেন বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ। তাঁর এ মৃত্যুর ঘটনাটি শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তোলেন তিনি।
আজ রোববার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে বিএনপির এই সাংসদ নারায়ণগঞ্জের মসজিদে এসি বিস্ফোরণের বিষয়টিতেও সরকারকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরে ঢাকা-১৮ আসনের সাংসদ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও নওগাঁ-৬ আসনের সাংসদ ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে সর্বসম্মতভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদ। শোক প্রস্তাবে চলতি সংসদের দুজন সাংসদ ছাড়াও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। শোক প্রস্তাবে দেশ-বিদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী, নারায়ণগঞ্জে মসজিদে এসি বিস্ফোরণ ও লেবাননে বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সিনহা হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আমি সংসদ সচিবালয়কে আপনার মাধ্যমে মেজর সিনহার জীবনবৃত্তান্তও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। তার কারণ, যিনি আজকে সারা দেশের ভিতকে নাড়া দিয়েছেন। যার জন্য সেনাবাহিনী প্রধান ও পুলিশ বাহিনীর প্রধান জনগণের মুখোমুখি হতে বাধ্য হয়েছেন, এই ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যেন সংঘটিত না হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় গোটা জাতি শোকাহত হয়েছে। যে কারণে আমি মনে করি, আপনারা যে শোক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন, এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া একান্ত আবশ্যক।’

শোক প্রস্তাব পাঠের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোনো সাংসদ বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বাদ পড়ে থাকলে, তা অন্তর্ভুক্তির জন্য সংসদ সচিবালয়ে নাম জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। হারুনের বক্তব্যের পর স্পিকার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের বিষয়ে বিএনপির এই সাংসদ বলেন, ‘আমাদের দেশ মসজিদের দেশ। মানুষ মসজিদে যদি আজকে নিরাপদ না থাকে, সেটা দুঃখজনক। এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কি না, এর একটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আমি সংসদ নেত্রীকে অনুরোধ করব।’ তিনি এ ঘটনার তদন্তে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।