লাল দিঘীর পাড়ে লাইব্রেরি কমিউনিটি সেন্টার কাম সাইক্লোন সেন্টার উদ্বোধন
চট্টগ্রাম, ২৬ জুলাই, ২০২০:
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, মানবতা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ধর্ম, ইতিহাস, ঐতিহ্য অনুশীলন ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে পাঠাগারের কোন বিকল্প নেই। পাঠাভ্যাস তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করে, বয়সী মানুষদের অবসর বিনোদন করার সুযোগ করে দেয়।
আজ সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক পরিচালিত লালদিঘী কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রন দপ্তরে লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার কাম সাইক্লোন সেন্টার উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।
এ সময় চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমেদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, চসিক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, সহকারী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম চৌধুরী, মিজবাহ-উল আলম, লাইব্রেরিয়ান এ আর ফারুকী, সহকারী লাইব্রেরিয়ান সৈয়দা পারভীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সিটি মেয়র বলেন, এই শহরেই তারর বেড়ে উঠা। একসময় দেখেছেন এই প্রতিষ্ঠানটির জৌলুষ। কিন্তু পরিচর্যার অভাবে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি অবহেলিত ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। এক সময় জ্ঞান অনুসন্ধানী নাগরিকরা এখানে ভিড় করতেন। তবে এর অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এখানে সংরক্ষিত বই-পত্রসহ অনেক মূল্যবান দালিলিক পান্ডুলিপি ও লেখাপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এটি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। তারপরও এই অবকাঠামোটিকে জ্ঞান চর্চাসহ একটি বহুমাত্রিক সেবামূলক স্থাপনা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। এই পাঠাগারসহ বহুমাত্রিক সেবাপ্রতিষ্ঠানটি চালু হলে বই পড়ুয়াদের মনের খোরাক মিটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে, কলকাতাস্থ চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই পাঠাগারটি ১৯০৪ সালে উন্নত মানস গঠন চর্চায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রাম নগরীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লালদিঘীর পাড়ের এই লাইব্রেরিটি বিট্রিশ কাউন্সিলসহ অনেক পাঠাগার প্রতিষ্ঠানের জন্মসূত্র। এই পাঠাগারে অনেক দুর্লভ গ্রন্থ, প্রামাণ্য দলিলসহ অনেক প্রকাশনাপত্র সংরক্ষিত আছে। তবে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারেনি। বর্তমানে অবকাঠামোগত অসুবিধা দূর করার ফলে আশা করা যায় এটি হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
১৪ কোটি ১৭ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা ব্যয়ে সাতান্ন হাজার দুইশত স্কয়ারফুটের ৭ তলা বিশিষ্ঠ এই ভবনের নীচ তলায় থাকছে পার্কিং, সাবস্টেশন, জেনারেটর, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ট্যাংক ও টয়লেট ব্লক। ভবনটির প্রথম তলায় রয়েছে ৩ হাজার বর্গফুটের কমিউনিটি সেন্টার, রান্নাঘর ও টয়লেট ব্লক,২য় তলায় রয়েছে কেন্দ্রীয় দূর্যোগ নিয়ন্ত্রণ অফিস, মিটিং রুম, হিসাব শাখা, শহর তথ্য কেন্দ্র, রেকর্ড রুম, নিয়ামক কক্ষ, জিআইএস ইউনিট, টয়লেট ব্লক। এর তৃতীয় তলায় আছে শিক্ষা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। চতুর্থ তলায় আছে ১৬শ বর্গফুটের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী,কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার(ডিজিটাল ল্যাব) মিনি ক্যাফে, প্রশাসনিক কক্ষ, টয়লেট ব্লক। পঞ্চম তলায় রাখা হয়েছে, ফুটবল ক্লাব ও অন্যান্য ক্লাব,ওয়েটিং রুম,মিটিং রুম। ষষ্ঠ তলায় রয়েছে জিমনেশিয়াম (পুরুষ-মহিলা) ইনডোর গেইম,অফিসরুম এবং সপ্তম তলায় থাকছে ভিআইপি গেস্ট রুম,রুম সার্ভিস, চেঞ্জিং রুম।