রাজশাহী অগ্রণী ব্যাংক সাবেক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি ২০২১ :
অগ্রণী ব্যাংক লি. গোদাগাড়ী শাখা, রাজশাহীর সাবেক ব্যবস্থাপক (প্রিন্সিপাল অফিসার) মোঃ আহসান হাবীব নয়ন-এর বিরুদ্ধে গ্রাহকের ০৬ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অপরাধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
সহকারী পরিচালক জনাব মো: আল-আমিন অদ্য ২৭/০১/২০২১ খ্রি. তারিখে দুদক, জেলা কার্যালয় রাজশাহীতে মামলাটি দায়ের করেন।
 মামলার বিবরণ:
আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন, সাবেক ব্যবস্থাপক (প্রিন্সিপাল অফিসার), অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, গোদাগাড়ী শাখা, রাজশাহী; পিতা-মোঃ হারেজ উদ্দিন, বাসা নং ১২৭/৪, বহরমপুর, ব্যাংক কলোনী, জিপিও-৬০০০, রাজপাড়া, রাজশাহী, ব্যবস্থাপক হিসেবে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, গোদাগাড়ী শাখায় দায়িত্ব পালনকালে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে উক্ত শাখার গ্রাহক জনাব মোঃ সাবের আলী’র সিসি ঋণ হিসাব হতে ৬,০০,০০০/- (ছয় লক্ষ) টাকা উত্তোলনপূর্বক আত্মসাত করে দন্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।
ঘটনার বিবরণীতে প্রকাশ, দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, গোদাগাড়ী শাখা, রাজশাহী’র গ্রাহক জনাব মোঃ সাবের আলী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সাবের আলী ট্রেডার্স’ এর অনুকূলে একটি ১০ (দশ) লক্ষ টাকার এসএমই সিসি (হাইফো) ঋণ সুবিধা ভোগ করছেন, যার হিসাব নং ০২০০০০৯৫৭৭৫৯৪। উক্ত হিসাবটি ০৮/০৫/২০১৯ খ্রি. তারিখে নবায়ন করা হয়, যার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ছিল ৩১/১২/২০১৯ খ্রি.। গ্রাহক জনাব মোঃ সাবের আলী গত ২০/০৮/২০১৯ খ্রি. তারিখে নিজে উক্ত ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হয়ে ১০,০০০/- টাকার একটি চেক দিয়ে টাকা উত্তোলনের সময় তার ব্যাংক হিসাবের স্থিতি জানতে চান। সেপ্রেক্ষিতে ব্যাংক থেকে তার ঋণ হিসাবের স্থিতি জানানো হয়। তখন তিনি ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকার গড়মিল মনে করেন। অত:পর তিনি উক্ত ব্যাংক হতে প্রাপ্ত ঋণ হিসাব বিবরণী যাচাই করে দেখেন যে, ১৬/০৬/২০১৯ খ্রি. তারিখে চেক নং ৪৩০৮১৭২ এর মাধ্যমে তার উক্ত সিসি ঋণ হিসাব হতে ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। গ্রাহক জনাব মোঃ সাবের আলীর হিসাব হতে উক্ত ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা উত্তোলন হওয়ার এক সপ্তাহ পূর্বে তৎকালীন ব্যবস্থাপক আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন জনাব মোঃ সাবের আলীকে অবহিত করেন যে, ঋণ হিসাবটি শূন্য করার জন্য উক্ত হিসাবের একটি ফাঁকা চেক প্রয়োজন। এজন্য আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন উক্ত শাখার অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী জনাব মোঃ আফজাল হোসেনকে ১৬/০৬/২০১৯ খ্রি. তারিখে জনাব মোঃ সাবের আলীর বাড়িতে পাঠান। গ্রাহক মোঃ সাবের আলী পূর্বের কথা অনুযায়ী তার ঋণ হিসাবের একটি ফাঁকা চেক যার নং ৪৩০৮১৭২ এর উভয় দিকে স্বাক্ষর করে অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী জনাব মোঃ আফজাল হোসেনকে প্রদান করেন। অস্থায়ী নিরাপত্তা প্রহরী জনাব মোঃ আফজাল হোসেন উক্ত ফাঁকা চেক নিয়ে ব্যাংকে আসেন এবং আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়নকে প্রদান করেন। চেক হাতে পেয়ে আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন নিজ হাতে ছয় লক্ষ টাকার পরিমান (কথায় ও অংকে) লিখেন এবং ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার জনাব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, চেকের প্রথম ক্যানসেলেশন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও এক্ষেত্রে তাকে এড়িয়ে আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন নিজেই চেক ক্যানসেলেশন করে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে গিয়ে অফিসার (ক্যাশ) জনাব মোঃ আকতারুজ্জামান’কে চেকটি ক্যাশপূর্বক টাকা তার রুমে নিয়ে আসতে বলেন। জনাব মোঃ আকতারুজ্জামান চেকটি পোষ্টিং করার জন্য পাশের সিটে অবস্থিত সিডি ইনচার্জ [সিনিয়র অফিসার] জনাব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক এর হাতে দেন। তখন জনাব মোঃ আবু বকর সিদ্দিক চেকটি কম্পিউটারে পোস্টিং করে ক্যানসেলেশনপূর্বক পুনরায় জনাব মোঃ আকতারুজ্জামান’কে দেন। অত:পর জনাব মোঃ আকতারুজ্জামান উক্ত চেকটি ক্যাশ করে ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা [এক হাজার টাকার ছয়টি বান্ডেল] তৎকালীন ব্যবস্থাপক আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন এর কক্ষে নিয়ে তাকে (আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়নকে) বুঝিয়ে দেন।
এ বিষয়ে আসামী মোঃ সাবের আলী নিজে উক্ত ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা উত্তোলন/গ্রহণ করেননি মর্মে গত ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে আবেদনের মাধ্যমে তদন্তের দাবি করেন। অগ্রণী ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী হতে ০৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন কর্তৃক উক্ত ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা আত্মসাতের সন্দেহাতীত প্রমাণ পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজশাহীর তদন্ত প্রতিবেদনেও সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিজে চেকটি পাশ করে নগদে ৬,০০,০০০/- টাকা উত্তোলণপূর্বক আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা হতে পরিচালিত তদন্তে আসামী মোঃ আহসান হাবীব নয়ন এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে উক্ত ০৬ (ছয়) লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে মর্মে তদন্ত প্রতিবেদনে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।