নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নরসিংদীর মনোহরদীতে এক প্রভাবশালী আইনজীবীর দায়ের করা মামলায় ছয়জন নিরাপরাধ ব্যক্তি জেলের ঘানি টানছে। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার চরমান্দালিয়া গ্রামে। মামলার বাদী চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের আবদুল মতিনের ছেলে অ্যাডভোকেট মো. শফিকুর রহমান মিলন।

তিনি নরসিংদী জজ আদালতের আইনজীবী। ভুক্তভোগীরা হলেন একই গ্রামের জামির উদ্দিনের ছেলে দুদু মিয়া, রবি মিয়া, আবদুর রহমান, বজলুর রহমান, ফজলুর রহমানের ছেলে আবদুল্লাহ এবং ফালু মিয়ার ছেলে ইসমাইল হক।

চরমান্দালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাদির বলেন, যারা জেলহাজতে রয়েছেন তারা খুবই গরিব মানুষ, তারা নিরপরাধ। এই বিরোধ মিমাংশার জন্য উভয়পক্ষকে বসার অনুরোধ করেছিলাম।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শফিকুর রহমান মিলন ও তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাদের জমি জোরপূর্বক ভোগ দখল করে আসছে। নিজের সম্পত্তির ওপর ঘর তুলতে গেলে ওই আইনজীবী ও তার ভাইয়েরা বাধা দেয়। ভুক্তভোগীরা আরো জানতে পারে, তাদের প্রায় দুই বিঘা জমি শফিকুর রহমান ও তার ভাইদের দখলে রয়েছে। এসব জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তারা গালাগাল ও মারধরের হুমকি দেয়।

গত ১২ মার্চ ভুক্তভোগীদের জমির ওপর ইটের প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বিষয়টি মনোহরদী থানা পুলিশকেও জানানো হয়। দুদিন পর গত সোমবার দিনে-দুপুরে অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমান মিলন ও তার ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কনকের নেতৃত্বে শতাধিক সদস্যের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী দুদু মিয়া ও তার ভাইদের জায়গার স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়।

এর আগে ১২ মার্চ শফিকুর রহমান মিলন বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগ এনে নরসিংদী আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার রাতে পুলিশ তাদের আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয়।

এবিষয়ে শফিকুর রহমান মিলন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে আছে। কাগজপত্রও আমাদের পক্ষে। প্রতিপক্ষ যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় মিথ্যা মামলা দিয়ে দিবো।’