নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার তাতাঁরদী গ্রামে পূজা রাণী মন্ডল (১৮) নামে মনোহরদী সরকারি ডিগ্রী কলেজের এইচ এস সি প্রথম বর্ষের ছাত্রী। দীর্ঘ তিন বছর যাবত ভালোবাসতো একই গ্রামের বাসিন্দা শওকত আলীর পুত্র  মুঞ্জুরুল কে।ঘাতক প্রেমিক মুঞ্জুরুল দীর্ঘ তিন বছরের প্রেমের সম্পর্ক ভুলে অন্য আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে, আর এই ঘটনা জানতে পেরে কলেজ পড়ুয়া পূজা রানী মন্ডল গত (১৭ডিসেম্বর ) দুপুর ১২টায় দিকে,নিজের থাকার ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত পূজা রানী মন্ডলের বাবা স্বপন চন্দ্র মন্ডল (৪৮) এবং মা প্রভা রাণী মন্ডলের ( ৩৭)একমাত্র কন্যা। পূজা রাণীর আত্মহত্যার একদিন পরে খুঁজে পাওয়া গেছে পূজা রাণী মন্ডলের হাতের লেখা একটি পত্র।
নিহত পূজা রাণীর মা এবং বাবা জানাই, গত (১৭ডিসেম্বর) দুপুর ১২ টার দিকে পূজা রাণী তার নিজ ঘরের মধ্যে গলায় ওড়না পেচিয়ে দনার সাথে ঝুলতে থাকে, এই ঘটনা প্রথমে পূজা রাণী মন্ডলের মা প্রভা রাণী মন্ডল দেখতে পায়, এবং সজোরে কান্নাকাটি করতে থাকে মায়ের এই কান্নায় এলাকার প্রতিবেশী এসে দেখতে পায় পূজা রাণী মন্ডল ঘরের মাঝে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলিয়ে আছে।প্রতিবেশীর সহযোগিতায় পূজা রাণী মন্ডল কে উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক জেলা হাসপাতাল নরসিংদী তে রেফার করে। নিহত পূজা রাণী মন্ডলের বাবা স্বপন চন্দ্র মন্ডল গ্রাম পুলিশ হিসাবে লেবুতলা ইউনিয়ন নিয়োজিত আছেন। সেই সূত্রে মনোহরদী থানার পুলিশকে অবগত করে বলেন আমার মেয়ে পূজা রাণী মন্ডল আর নেই ,কেন তাহাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে ,পুলিশের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এবং ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে সনাতন ধর্ম মতে লাশের শেষ দাহ করা হয়।
এবং গতকাল (২১ শে ডিসেম্বর) সকালবেলায় এলাকার প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজন নিহত পূজা রাণী মন্ডল এর সৎকার্য সম্পাদন করার জন্য নিহতের বাড়িতে একত্রিত হয়। সৎকার্য করতে কি কি লাগবে তার লিস্ট করতে পূজা রাণী মন্ডলের বাবা স্বপন চন্দ্র মন্ডল দেখতে পাই, পূজার লেখার খাতায় পুজারাণীর হাতের লেখা একখানা পত্র।
পূজা রাণী মন্ডলের হাতের লেখা।
ভালোবাসা কি অপরাধ? আমিও ভালবাসতাম একজনকে, কিন্তু সে ঠকিয়ে অন্য একজনকে নিয়ে সুখে আছে। আমি যাকে ভালবাসতাম তার নাম হলো মঞ্জুর। তার সাথে আমার তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। তারপর আমাকে নরসিংদী কোর্টে নিয়ে বিয়ে করে। এসব কিছু দীপক জানতো। দীপক উকিল আর মুহুরীর সাথে পরিচয় করে দেয়, আমার সাথে ওরা দুজন মিথ্যা ছলনা করেছে।
মনজুর এখন অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক করে। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী মঞ্জুর আর দীপক। আমি ওদের ফাঁসি চাই। ইতি, পূজা।
অপর পৃষ্ঠায় লেখা আছে, আমার কাছে কিছু প্রমাণ নেই তাই আমাকে এটা করতে হয়েছে।
এই পত্রখানা পাওয়ার পরে উপস্থিত সকলকে পত্র সম্বন্ধে অবগত করে। এবং স্থানীয় মেম্বার মোঃ শফিকুল ইসলামকে পত্রখানা দেখায়, পরে বিষয়টি লেবুতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেন আকন্দকে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত করেন।
মনোহরদী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে জানান,বিষয়টি সম্বন্ধে আজ আমি জেনেছি এবং নিহতের বাবা আমাকে পত্রখানা দেখিয়েছে। তবে এব্যাপারে আমাদের কাছে কোন লিখিত অভিযোগ নেই। যদি লিখিত অভিযোগ আসে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।