বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্যটন

ঢাকা, ২০ ভাদ্র (৪ সেপ্টেম্বর) :

মোঃ সাইফুল্লাহ রাব্বী:
বিশ্ব পর্যটন দিবস মানেই পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত মানুষদের কাছে এক মহা উৎসবের নাম।বিশ্ব পর্যটন দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে সকল সদস্য দেশে এটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পর্যটন কেন্দ্রের সাথে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়াও, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এ দিবসের অন্যতম লক্ষ্য (উৎস- উইকিপিডিয়া)।
প্রতিবছর পর্যটন দিবস উৎযাপনের জন্য একটি থিম বা প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারিত হয়। সেই থিমকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী দিনটিকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে উৎযাপন করা হয়। ২০২০ সালে বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় Tourism: Building Peace! Fostering Knowledge! আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচত হয়েছে জিবুতি ও ইথিওপিয়া। European Council on Tourism and Trade জিবুতি ও আদিস আবাবাকে সিটি অব ট্যুরিজম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এবছর এই দুই শহর থেকেই বিশ্ব পর্যটন দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হবে।
বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচার ও প্রসারের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম বিভাগ, আটাব, টোয়াবসহ বিভিন্ন পর্যটন সংগঠন বিভিন্ন র্যালি, অনুষ্ঠান, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে বিশ্ব পর্যটন দিবস উৎযাপন করে থাকে। এই দিনে উৎসবমূখর ভাব থাকে পর্যটনপ্রেমীদের মাঝে।
এই বছর বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠায় পর্যটনের উপর ব্যাপক জোড় দেয়া হয়েছে।শুধু বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠা নয় পর্যটন মাধ্যমে জ্ঞান প্রতিপালন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সীমান্ত সম্প্রীতি বৃদ্ধি বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৫০ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৫ মিলিয়ন বর্তমানে এর সংখ্যা ১২০ কোটি এবং ২০৩০ সাল নাগাদ ১৮০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে।বিশ্ব-অর্থনীতিতে পর্যটন চোখে পরার মত অবদান রাখছে।আগামী দিন গুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব-অর্থনীতিতে ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরিজমের অবস্থান চতুর্থ স্থানে(WTTC)।
এখন আলোচনা করবো কিভাবে পর্যটনের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় সেই বিষয়গুলি নিয়ে। বিশ্ব-শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্যুরিজমের চেয়ে শুদ্ধতম উপাদান খুঁজে পাওয়াটা কঠিন এই সময়ে। পৃথিবীতে বহু ইজম শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফেল করেছে, এখন একমাত্র যে ইজম বাকি আছে তা হলো ট্যুরিজম। যেখানে কোন হিংসা বিচ্ছেদ নেই আছে ভালোবাসা, সম্প্রীতি, সহযোগিতা, জ্ঞান আদান-প্রদান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়, সমঝোতা। পর্যটনের সাথে জড়িত মানুষেগুলো কখনোই দাঙ্গা-হাঙ্গামা পছন্দ করে না।কারণ তারা প্রকৃতিকে ভালোবাসে,প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকা মানুষদের জীবনপ্রনালী উপভোগ করতে ছুটে আসেন,সভ্যতার বিকাশ নিয়ে ভাবে বা দেখতে ভালোবাসে,অজানাকে জানতে চায়, এক অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানের নতুন প্রকৃতিকে নিজ চোখে দেখতে আনন্দবোধ করেন,প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রতার স্বাদ নিতে পছন্দ করেন, মানুষকে সেবা দিয়ে থাকে পরম যত্নে । পর্যটন মানুষকে টেনে নিয়ে যায় অন্য এক জগতের দিকে,যে জগতের সৃষ্টি আনন্দ, বিনোদন ও প্রশান্তিকে কেন্দ্র করে।
যে জগতে আছে পরম আনন্দ,ভ্রাতৃত্ববোধ,ভালোবাসা,সহানুভূতি,একে অপরের প্রতি সহযোগী মনোভাব, সম্প্রীতির বন্ধন,অন্যের সাথে নিজেদের সময়গুলোকে মিলিয়ে ভালো কিছু সময় কাটানো,অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান,নতুন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়ানো,হরেক রকমের খাবারের সাথে পরিচয় ও খাবার খাওয়া,নতুন নতুন মানুষের সাথে পরিচিতি ও বন্ধুসূল্ভ সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়গুলো এজগতের মানুষগুলোকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সকলেই মানুষকে সাদরে গ্রহন করে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা দিয়ে।তারা মানুষকে ভালোবাসতে জানে পরম শ্রদ্ধায়। মানুষকে খুশি রাখার জন্য নিজের সুখটুকু বিলিয়ে দিয়ে হাসিমুখে সেবা দিয়ে থাকে এই শিল্পের সাথে জড়িত সেবকেরা।যাদের কাছে অতিথি সেবাই পরম ধর্ম। যেখানে অশান্তির কোন স্থান নেই আছে শুধু প্রশান্তির ছায়া।শান্তির পতাকাবাহী শিল্প যার নাম পর্যটন যেখানে অশান্তির কোন সু্যোগ নেই।ট্যুরিজমের বিকাশের দ্বারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সভ্যতার ইতিবাচক পরিবর্তনের সাথে জ্ঞানের প্রতিপালন হোক এটায় হবে আমাদের প্রত্যাশা। পর্যটনের মাধ্যমে সকল মানুষ হোক শান্তির কান্ডারী।
মোঃ সাইফুল্লাহ রাব্বী
প্রভাষক, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ড্যাফোডিল ইনিস্টিউট অব আইটি।
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান – বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ট্যুরিজম ইনোভেশন