রিয়াজ মুন্না, চবি :

এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েও কিছু গাফেলতির কারণে এক বছর পড়াশোনার বাইরে থাকি। এই সুযোগে অনেক কাছের বন্ধুরা কম জিপিএ নিয়েও ঢাবি তে চান্স পায় আর আমি হতাশায় ভুগতে ভুগতে অল্প প্রস্তুতি নিয়ে শুধু চবি বি ইউনিটের পরীক্ষা দিই। মেরিটে ২১৬তম হই। অনেকেই বললো ইতিহাস নিতে আর কেউ বললো দর্শন নিতে, বাংলা আর ইংরেজিতে সেশন জট!

আমার ইচ্ছে ছিলো ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়বো
যদি ইংরেজি সাহিত্য না পাই বাংলা সাহিত্যে পড়বো ঠিক তাই করলাম।
বাংলা সাহিত্যে পড়ায় আমার ঢাবির অনেক বন্ধু আমার সাথে ভালোভাবে কথাই বলতো না।
কারণ ওরা বিবিএর মত ডিমান্ডেবল সাবজেক্টে পড়তো।
মনোকষ্ট আর তাচ্ছিল্য থেকেই আজ এতো দূর আসা।

এভাবেই দীর্ঘ স্বপ্নযাত্রা ও বন্ধুর পথচলার স্মৃতিচারণ করছিলেন চট্টগ্রামের আনোয়ারার কৃতি সন্তান ও চবির মেধাবী শিক্ষার্থী হাসনাইন ইস্তেফাজ পাভেল। স্কুল শিক্ষক পিতা মৌলভী আশরাফ আলী হোছাইনী ও গৃহিণী মাতা খুরশিদা আক্তারের ৫ সন্তানের মধ্যে পাভেল মেঝ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। দীর্ঘ এ পথচলায় তাকে বহু প্রতিকূলতা ও মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি চাই আমার মতোন কেউ এতো চাপা কষ্ট নিয়ে পড়াশোনা করুক। আমার দেখা অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবজেক্ট নিয়ে হেয় প্রতিপন্ন হয় অন্য বিভাগের স্টুডেন্ট থেকে।

পাভেল ছেলেবেলা থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। সক্রিয় ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, “এম.ফিল, পিএইচডি করার ইচ্ছা আছে।
বিসিএস এর স্বপ্ন তো আছেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পেলে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার জন্য নিজেকে মনোনিবেশ করবো। বিভিন্ন ভাষার ওপর কোর্স সম্পন্ন করছি। ইচ্ছে আছে স্কলারশিপ নিয়ে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কিম্বা কলকাতার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার।”

বিশেষ স্মৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেদিন গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছিলাম সেইদিন সারারাত খুশিতে ঘুমাই নি।”

অনুজদের প্রতি তার অনুরোধ, ” বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবজেক্ট কোনো বিষয় না।
মনোযোগ, ধৈর্য্য থাকলে সবই সম্ভব। আর নিজেকে কোনোভাবেই দুর্বল না ভাবা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভিশাপ নিজেকে দুর্বল ভাবা।”

সাফল্যের পেছনে অকৃত্রিম অবদান রাখায় পাভেল তার পিতামাতা ও প্রিয় শিক্ষকবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।