হাসানুজ্জামান সুমন-বিশেষ প্রতিনিধি

১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রথম নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক বাবলু গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে ৯ই মার্চ ১৯৮৭ সালে তাকে জীবন দিতে হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের ৪২৬নং রুমের সামনের বারান্দাতে আততায়ী হামলায় নিহত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দর্শন বিভাগের ১৯৮০-১৯৮১বর্ষের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায় সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্ম তার । ৪ভাই ৩ বোনেই মধ্যে তিনি ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন।

বাবলু সম্পর্কে সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তার ছোট ভাই সানাউল হক নীরু ভারাক্রান্ত হৃদয় ও অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পার হলে ও আমার বড় ভাইয়ের মৃত্যু যে উদ্দেশ্য, যে সংগ্রামে শাহাদত বরণ করেছে আমার বড় ভাই ও আরো অনেকে সেই আশা আজও পূরণ হয়নি। ওই সংগ্রামে আমাদের একটাই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। কিন্তু আমার ভাই কে আমরা ঠিক মতন দাফন-কাফন ও করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে তার কবর খোঁড়া হলেও তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পেটুয়া বাহিনীর বাধার কারণে মধ্যরাতে গ্রামের বাড়ি পারিবারিক মসজিদ ও এতিমখানার সামনে উনাকে দাফোন ও কবরস্থ করা হয়। স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে ছোট ভাই সানাউল হক নীরু বলেন ,বাবলু ভাই এর মৃত্যুতে স্বৈরাচারী সরকার পতনের আন্দোলনে ১০ই মার্চ ১৯৮৭সন হরতাল দিয়েছিল তৎকালীন বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

তিনি আরো বলেন ১৯৯১সালে স্বৈরাচার সরকারের যখন পতন হল তখন মনে করলাম এবার মনে হয় গণতন্ত্র ফিরে আসবে। কিন্তু দেখলাম একক ক্ষমতা, একক গণতন্ত্র নিয়ে তৎকালীন সরকার কাজ শুরু করছে । এখন পর্যন্ত দেখছি যে সরকার ক্ষমতায় আসে তারা এককভাবে ক্ষমতার অপব্যাবহার করছে। নেই ভোটের অধিকার, নেই গণতান্ত্রিক অধিকার, নেই ভাতের অধিকার সমস্ত জায়গায় মেগা মেগা প্রজেক্ট দিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে দেশটাকে একক ক্ষমতায় বশীভূত করেছে। এজন্যই কি আমরা আন্দোলন করেছি? আমি ও তৎকালীন ১৯৮৬সালের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রথম নির্বাচিত সাংগঠণিক সম্পাদক ছিলাম ।কিন্তু বারবার আমরা রাজনৈতিকভাবে বলির শিকার হয়েছি। আজকে দেখছি কারো লেখার অধিকার নেই, কারো কথা বলার অধিকার নেই, আবারো একই ভাবে একক ক্ষমতার অপব্যাবহার চলছে। এর জন্যই কি আমার ভাই জীবন দিয়েছিল তৎকালীন সময়? আরো অনেক বড় বড় ছাত্রনেতা এই স্বৈরাচার আন্দোলন করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন বসনিয়ার,সেলিম দেলোয়ার হোসেন, নূর হোসেন সহ আর ও অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রীরা।

আমি শুধু আমার বড় ভাইয়ের জন্য না স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে যে সকল ভাইয়েরা শহীদ হয়েছেন সবার আত্মার শান্তি ও মাগফেরাত কামনা করি, আল্লাহতালা যেন সবাইকে বেহেশ্ত নসিব দান করেন।