চাদাবাজির অভিযোগে কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযান দুদকের
ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১:
কক্সবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস, কক্সবাজার সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পর্যটনসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের সাথে মাসিক চুক্তিতে মাসোহারা আদায়, হয়রানি, চার’শটিরও অধিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিন শতাধিক প্রতিষ্ঠান হতে বিধি অনুযায়ী ভ্যাট আদায় না করে নিয়মিত মাসিক মাসোহারা গ্রহন, তালিকাভুক্ত রেস্টুরেন্টসমূহ কর্তৃক নিয়মিত ভ্যাট প্রদান না করা, কক্সবাজার সার্কেলের আওতাধীন প্রায় ১২ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন ও রাজস্ব প্রদান ব্যতিরেকে ব্যবসা পরিচালনা, কলাতলীর হোটেল মোটেল জোনসহ বিভিন্ন এলাকা অনিবন্ধিত প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতাভুক্ত না করে নিয়মিত মাসোহারা আদায় এবং সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলো হতে ঘুষের বিনিময়ে ভ্যাট মওকুফ করা হচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম-২ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাস এর নেতৃত্বে আজ (০৯-০২-২০২১ খ্রি:) এ অভিযান পরিচালিত হয়। দুদক টিমের সরেজমিন অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। “অস্টারিকো আবাসিক হোটেল”-এ অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন যাবত নিয়মিতভাবে ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে দুইটি রেজিস্টার ব্যবহার করে। একটি রেজিস্টারে হোটেলের লেবেল ও রুম প্রকৃত সংখ্যার ভিত্তিতে সরকার নির্ধারিত ভ্যাটের হিসাব রাখে। তবে, অন্য রেজিস্টারে হোটেলের লেবেল ও রুম সংখ্যা কম দেখিয়ে পরস্পর যোগসাজশে ভ্যাট অফিসে নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে ভ্যাটের টাকা ফাঁকি দিয়ে আসছে। এছাড়া, “সী উত্তরা আবাসিক হোটেল”-এ দুদক টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের ভ্যাট প্রদানের রেজিস্টার গায়েব করে ফেলে। তবে ভ্যাট সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে ভ্যাট ফাঁকির সত্যতা পাওয়া যাবে মর্মে দুদক টিমের নিকট প্রতীয়মান হয়েছে। দুদক টিম কর্তৃক আরও দু’টি রেস্টুরেন্ট এ অভিযানে দেখা যায় যে, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদেরকে মূসক চালান প্রদান না করে; মনগড়া মূসক ধরে বিল করে। উপস্থিত জনসাধারণ টিমকে জানায়, খাবারের বিলের সাথে মূসক হিসেবে আদায়কৃত অর্থ রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ও কক্সবাজার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে আত্মসাত করে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহপূর্বক পরবর্তীতে বিস্তারিত পর্যালোচনাপূর্বক কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক টিম।
এছাড়া, সরকারি শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়, বালিয়াডাঙ্গী, ঠাকুরগাঁও এর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও কলেজ ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, দিনাজপুর হতে এবং নোয়াখালী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, নোয়াখালী হতে আজ আরও দু’টি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়।
দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারাদেশে আজ ৬ টি অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ (৩ টি অভিযান, ৩ টি দপ্তরে পত্র প্রেরণ) করা হয়েছে।